
তিরুঅনন্তপুরম: স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কেরল জুড়ে অশান্তির আবহ (Kerala post-election violence)। রাজ্যের একাধিক জেলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছে, যার মূল কেন্দ্র উত্তর কেরলের কান্নুর ও কোঝিকোড় জেলা। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভে শাসক বাম শিবিরের কর্মী-সমর্থকরাই পরিকল্পিত ভাবে হিংসা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে সিপিএম-এর বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ তুলেছে।
সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কান্নুর জেলার কুন্নূথুপরম্বা গ্রাম পঞ্চায়েতে। এখানে স্থানীয় নির্বাচনে ইউডিএফ ১১টি আসন জিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। অভিযোগ, ফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিল বের করতেই বাম সমর্থকেরা সেই মিছিলে ইট-পাটকেল, দেশি বোমা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আচমকা আক্রমণে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেন।
উন্নত বিহার গড়তে পরিযায়ীদের রাজ্যে ফেরার ডাক উপমুখ্যমন্ত্রীর
এই ঘটনার পর সামনে আসা সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ভিডিও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, লাল পোশাক পরা একদল দুষ্কৃতী ইউডিএফ কর্মীর গাড়ি ও মোটরবাইক ভাঙচুর করছে। কিছু ভিডিওতে মুখ ঢাকা অবস্থায় একটি বড় দল রাস্তায় দৌড়ে সাধারণ মানুষকে তাড়া করছে এবং দলীয় অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছে। যদিও গুরুতর আহতের সরকারি খবর মেলেনি, তবু হামলার তীব্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু কান্নুর নয়, কোঝিকোড় জেলার এরামালা এলাকাতেও বড়সড় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ সামনে এসেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাতের অন্ধকারে তাদের ‘ইন্দিরা গান্ধী ভবন’ কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।
দাবি করা হয়েছে, ২০০-রও বেশি সিপিএম কর্মী ওই অফিসে ঢুকে আসবাবপত্র, জানলা-দরজা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি ভাঙচুর করে। প্রাথমিক হিসেবে সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও হামলা পুরোপুরি রোখা যায়নি বলে কংগ্রেসের অভিযোগ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৫ সালের কেরলের স্থানীয় নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে ইউডিএফ উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আগেই তুঙ্গে ছিল। কান্নুর জেলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্য পরিচিত। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী পরাজয় মেনে নিতে না পেরেই শাসক বামফ্রন্ট তথা এলডিএফ-এর কর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে হিংসার পথ বেছে নিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউডিএফ নেতৃত্ব কেরল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, পুলিশ প্রশাসন যদি আগেভাগে কড়া পদক্ষেপ নিত, তবে এত বড় ঘটনা এড়ানো যেত। যদিও রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বড় মাপের কোনও গ্রেফতারের খবর না মেলায় বিরোধীদের অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী এই ধরনের হিংসা কেরলের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক। নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থানই গণতন্ত্রের ভিত্তি। কিন্তু বারবার হিংসার রাজনীতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থাকে দুর্বল করে।
সব মিলিয়ে, ভোট-পরবর্তী এই অশান্তি কেরলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের সংযম ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন অত্যন্ত জরুরি।










