কন্নুর: কেরলের কন্নুরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য (Kannur bomb explosion)তৈরী হয়েছে একটি ইনস্টাগ্রাম রিলকে কেন্দ্র করে। বামপন্থী দলগুলোকে সমর্থন করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দেশীয় বোমার বিস্ফোরণের ভিডিও পোস্ট করার অভিযোগে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ‘রেড আর্মি কন্নুর’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে এই রিল পোস্ট করা হয়েছে, যাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে একটি দেশীয় বোমা বিস্ফোরণের দৃশ্য।
এই ভিডিও পোস্টের পর সিপিআই(এম) এবং মুসলিম লিগের কর্মীদের থেকে হুমকিমূলক কমেন্ট এসেছে, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।কন্নুর সাইবার পুলিশ রবিবার এই মামলা নথিভুক্ত করেছে। কেরল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে কন্নুর কমিশনারের কাছে অভিযোগ জমা পড়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
SIR: ‘শুনানির নামে হেনস্থা’ অভিযোগে বিধায়কের হুমকিতে শুনানি ব্যাহত
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা দাঙ্গা এবং নাশকতার উসকানি দেওয়ার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করবে অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের বিস্তারিত তথ্য এবং ভিডিওতে দেখানো বিস্ফোরণটি সত্যিই ঘটেছে কি না তা যাচাই করার জন্য।এই রিলটি প্রকাশ্যে আসার পিছনে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলের পর কন্নুরের বিভিন্ন অংশে ইউডিএফ এবং এলডিএফ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা রয়েছে বলে পুলিশের অনুমান।
কন্নুর জেলায় রাজনৈতিক হিংসা নতুন নয় দশকের পর দশক ধরে এখানে দেশীয় বোমা তৈরি এবং ব্যবহারের ঘটনা ঘটে আসছে। প্রায়শই সিপিআই(এম) এবং আরএসএস-বিজেপির কর্মীদের মধ্যে সংঘাতে এই বোমাগুলো ব্যবহার হয়, যার ফলে নিরীহ মানুষও প্রাণ হারান বা আহত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণে মানুষ মারা গেছে, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলো বারবার ‘বোমা সংস্কৃতি’র অভিযোগ তুলেছে।
বিরোধী দল কংগ্রেস এবং বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সিপিআই(এম)-কে আক্রমণ করেছে। তারা বলছে, বামপন্থী সমর্থক অ্যাকাউন্ট থেকে এমন ভিডিও পোস্ট করা প্রমাণ করে যে দলটি হিংসার সংস্কৃতিকে উসকে দিচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা দাবি করেছেন, কন্নুরে শান্তি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত দরকার।
অন্যদিকে, সিপিআই(এম) এখনও এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অতীতে তারা এ ধরনের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার বলেছে যে বোমা তৈরি এবং হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
