কলকাতা: বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের রাজপুত্র লিও মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছিল বিশৃঙ্খলা (Kunal Ghosh Jyoti Basu Mamata Banerjee)। দর্শকদের অভিযোগ ছিল ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পরিবারের লোকজন এবং অবাঞ্ছিত কিছু মানুষের জন্য মেসিকে দেখা সম্ভব হয়নি। ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন উন্মত্ত জনতা। স্টেডিয়াম জুড়ে চলেছিল ভাঙচুর।
এই ইস্যুতেই বামেরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চেয়ে সরব হয়েছিল। গণমাধ্যম থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সর্বত্রই চলছিল পদত্যাগের দাবি। এই ইস্যুকেই কেন্দ্র করে বামেদের তুলোধোনা করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি ১৯৮০ সালের ১৬ অগাস্টের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই দিন ইস্ট বেঙ্গল এবং মোহন বাগান ম্যাচকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়াম। ১৬ জন সমর্থকের মৃত্যুও হয়েছিল।
জর্ডানে উষ্ণ অভ্যর্থনা: মোদীকে নিজে গাড়ি চালিয়ে মিউজিয়ামে নিয়ে গেলেন ক্রাউন প্রিন্স
এই দিনকে ফুটবলের কালো দিন বলে উল্লেখ করে কুনাল বলেছেন সেদিন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু কি পদত্যাগ করেছিলেন ? তিনি আরও বলেন সেদিন পুলিশ মন্ত্রীও ছিলেন জ্যোতি বসু। তখন তিনি পদত্যাগ করেন নি। আজ মমতাও পদত্যাগ করবেন না বলে তিনি বাম সহ বিরোধী দলগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কুনাল তার বক্তব্যে বলেছেন যুবভারতীর ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। মমতা তদন্ত কমিশন ও বসিয়েছেন, কিন্তু সেই সময় জ্যোতি বসু কোনও পদক্ষেপ নেন নি। কুনাল ঘোষের মতে সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিলনা তাই মানুষ আসল সত্য জানতে পারেনি।
কিন্তু আজ সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বিরোধীরা এই মাধ্যমের ফায়দা নিয়ে তৃণমূলকে কলঙ্কিত করতে চাইছে। বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করে কুনাল বলেন যে এখন সুভাষ চক্রবর্তীকে নিয়ে সবাই মাতামাতি করছে। কিন্তু মারাদোনা কলকাতায় আসার পরেও এই ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়েছিল। কিন্তু তখন সোশ্যাল মিডিয়ার দৌরাত্ম কম থাকায় মানুষ অনেক কিছুই জানতে পারেনি। তবে কুনালের এই বক্তব্যে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তারা বলছে কুনাল যতই সোশ্যাল মিডিয়াকে দশ দিন না কেন।
এই মাধ্যমের জন্যই আসল ঘটনা সবাই জানতে পেরেছে। তারা বলেছে স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই দেখেছেন যে কিভাবে অরূপ বিশ্বাস এবং আরও কিছু অবাঞ্ছিত লোক যারা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পরিবারের তারা কিভাবে মেসিকে ঘিরে ছিল। আর হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনে মানুষ কিছুই দেখতে পায়নি। তবে এই মুহূর্তে তদন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং দর্শকরা টাকা ফেরত পান কিনা সেটাই নজরে থাকবে সবার।
