কলকাতা: কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল কলেজে এবারও সরস্বতী পূজো (Saraswati Puja)ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী শিবির বিজেপির অভিযোগ বিদ্যাসাগরের ভূমিতে, যেখানে জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী মা সরস্বতীর আরাধনা হওয়া উচিত স্বাভাবিক ও উৎসাহভরে, সেখানে ছাত্রছাত্রীরা, বিশেষ করে মেয়েরা, তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত বহিরাগতদের হুমকি ও ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
এই ঘটনা শুধু একটি কলেজের সীমাবদ্ধ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার উপর আঘাতের একটি চিত্র তুলে ধরছে।এই বছর সরস্বতী পূজোর প্রস্তুতি নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রাক্তন নেতা সাবির আলি এবং তার সঙ্গীরা বহিরাগত হয়ে কলেজে ঢুকে পড়ছেন এবং পূজার আয়োজন বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের তোড়জোড়
কয়েকজন ছাত্রী জানিয়েছেন, তাঁদের ধর্ষণ ও খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। এক ছাত্রী চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায়ও নাকি এই হুমকির মুখে পড়েছেন এবং অসহায় বোধ করছেন। এই ধরনের ভয়ের পরিবেশে পূজার প্রস্তুতি থমকে গিয়েছে, যা ছাত্রীদের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে।এই ঘটনা নতুন নয়। গত বছরও একই কলেজে সরস্বতী পূজো নিয়ে একই বিতর্ক উঠেছিল।
তখনও সাবির আলির নাম উঠে এসেছিল। ছাত্রীরা বলছেন, এরা টোলাবাজি করে, পূজার জন্য টাকা দাবি করে এবং না পেলে পূজা করতে দেয় না। কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছিল গতবার, যেখানে আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল পূজা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে হয় তার ব্যবস্থা করতে। যৌথ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে পুলিশি নিরাপত্তায় পূজা সম্পন্ন হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু কলেজে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং বলেছিলেন, “কেউ হুমকি দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছে? অভিযোগকারীরা বলছেন, কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি, ফলে এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।এই ঘটনা শুধু ধর্মীয় উৎসবের বাধা নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দখলদারির একটা বড় ছবি।
তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের নাম করে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ছে, ছাত্রছাত্রীদের ভয় দেখাচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মা সরস্বতী জ্ঞান, সঙ্গীত, শিল্পকলার প্রতীক তাঁকে লক্ষ্য করে এমন আচরণ করা মানে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেই আঘাত করা।
বিরোধীরা বলছেন, এটা তোষণ নীতির ফল। যেখানে হিন্দু উৎসবকে বাধা দেওয়া হয়, সেখানে অন্য ধর্মের অনুষ্ঠান নিয়ে কোনও সমস্যা হয় না। এই দ্বিমুখী নীতি রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠের মনে অসন্তোষ তৈরি করছে।
