গুয়াহাটি: অসমের (Assam)বন সংরক্ষণে আরেকটি বড় সাফল্যের দাবি করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জামুনা–মৌদাঙ্গা রিজার্ভ ফরেস্টে চালানো হল এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান। প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা ৭৭০ হেক্টর (৫,৭৭৫ বিঘা) বনভূমি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মোট ১,১২১.৭৩ হেক্টর রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকার মধ্যে এই অংশটি ছিল অবৈধ দখলের কবলে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বহুদিন ধরে। বন দফতর, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ তিন পক্ষের সমন্বয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়। যেকোনও ধরনের অশান্তি এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি বলেই প্রশাসনের দাবি।
ভারতের প্রতিরক্ষা মজবুত করতে ইজরায়েল থেকে আসছে ভয়ঙ্কর অস্ত্র
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযানকে অসমের বন ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বনভূমি কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার। অবৈধ দখলদারদের জন্য বন ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার আইন মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে এবং প্রকৃত বনবাসীদের স্বার্থ যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে নজর রাখা হয়েছে।
জামুনা–মৌদাঙ্গা রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকাটি পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দশকে অবৈধ বসতি, চাষাবাদ এবং নির্মাণকাজের ফলে বনভূমির বড় অংশ ধ্বংসের মুখে পড়ে। বন দফতরের মতে, এই উচ্ছেদ না হলে আগামী দিনে এলাকাটির পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
উচ্ছেদ অভিযানের সমর্থনে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বনভূমি দখলমুক্ত হলে শুধু পরিবেশ রক্ষা হবে না, বরং বন্যপ্রাণীদের চলাচলের স্বাভাবিক পথও ফিরবে। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষ কমবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এই এলাকায় পুনরায় বৃক্ষরোপণ এবং বন পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তবে এই অভিযানের বিরোধিতাও কম নয়। কিছু মানবাধিকার সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেছেন, উচ্ছেদের ফলে বহু পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন ও যোগ্য, তাঁদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের নামে গরিব মানুষদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে শাসকদলের পাল্টা দাবি, অবৈধ দখলদারদের সরানো ছাড়া বন রক্ষা অসম্ভব।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে অসমে একাধিক বড় উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে কখনও বনভূমি, কখনও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে। রাজ্য সরকার বলছে, এই নীতি অব্যাহত থাকবে এবং আইন মেনেই সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, জামুনা–মৌদাঙ্গা রিজার্ভ ফরেস্টে এই উচ্ছেদ অভিযান অসম সরকারের কাছে একটি বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বার্তা প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কোনও আপস নয়। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি পুনর্বাসন ও মানবিক দিকগুলি কতটা গুরুত্ব পায়, সেটাই এখন আগামী দিনের বড় প্রশ্ন।
