
কলকাতা: মঞ্চে গান গাইতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বাংলার জনৈক গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে (Lagnajita Chakraborty)। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের মঞ্চে জাগো মা গান ধরতেই মারতে এসেছিলেন তৃণমূল নেতা মেহবুব মল্লিক। জাগো মা সাম্প্রদায়িক, তার দাবি ছিল গাইতে হবে সেক্যুলার গান। আর সেই সেক্যুলার গান কি তার সুলুক সন্ধান দিলেন বিজেপির নেতা এবং বিশিষ্ট আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
তিনি এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বলেন পশ্চিমবঙ্গে আদৌ কোন গানকে ‘সেক্যুলার’ বলা যায়? তাঁর দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের “সবচেয়ে সেক্যুলার গান” হল একটি জনপ্রিয় লোকধর্মী গান “মন আমার কেমন কেমন করে”। তিনি ওই গানের একাধিক পংক্তি উদ্ধৃত করে দেখিয়েছেন, যেখানে স্পষ্টভাবে ইসলামি ধর্মীয় ভাবনা, মদিনা নগর, নবীজি এবং মহম্মদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
গগনযান ক্রু মডিউলের জন্য সফল ড্রগ প্যারাসুট পরীক্ষা ইসরোর
তরুণজ্যোতি এই গানের বেশ কিছু লাইন কোট করেও সবাইকে দেখিয়েছেন। এই গানের উল্লেখযোগ্য অংশগুলি হল “দরিয়ায় আইলো তুফান, আয় কে যাবি রে, হেঁসে হেঁসে যাবি ভেসে মদিনা নগরে”, কিংবা “নাম নেব মহম্মদের, কেটে যাবে ভয় বিপদের” এই অংশগুলিকে সামনে এনে তিনি কটাক্ষ করেন যে, এই গান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে গাওয়া হলে তা ‘সেক্যুলার’, অথচ ‘জাগো মা’ গাওয়াই যদি অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তবে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসর দাঁড়িয়ে আছে এক বারুদের কাঠামোর উপর।
তরুণজ্যোতি আরও বলেছেন দুর্গামায়ের সামনে দাঁড়িয়ে যদি কোনও তৃণমূল সমর্থক এই গানটি করেন, তাহলে সেটিকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-র নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু কোনও স্কুল, সরকারি মঞ্চ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যদি সামান্য ভগবানের আরাধনাও হয়, তাহলে শিল্পীদের লগ্নজিতার মতো হেনস্থার শিকার হতে হতে পারে। নিজের পোস্টের এই লাইন গুলোর মধ্যে দিয়ে তরুণজ্যোতি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন এই রাজ্যের শাসক দলের দ্বিচারিতা এবং তার সঙ্গে তঞ্চকতা কোন স্তরে গিয়ে পৌঁছেছে।
এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একদিকে তৃণমূল সমর্থকরা একে উস্কানিমূলক মন্তব্য বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবির বলছে এই ঘটনাই প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গে সেক্যুলারিজম এখন আর সমান চোখে দেখা হয় না। লগ্নজিতার উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘সিলেক্টিভ সেক্যুলারিজম’-এর অভিযোগ তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিতর্ক শুধু একটি গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আসলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিসরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। লগ্নজিতার ঘটনায় যেমন শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই তরুণজ্যোতির মন্তব্য সেই প্রশ্নকে আরও ধারালো করে তুলেছে বাংলায় সেক্যুলার হওয়ার মাপকাঠি ঠিক কে নির্ধারণ করছে?










