“হিপোক্রিট” মমতা! SIR নিয়ে শাসকদলকে তুলোধোনা শুভেন্দুর

কলকাতা: বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের (SIR) সময় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম হাজার হাজার মানুষের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন ‘বাংলায় SIR…

"হিপোক্রিট" মমতা! SIR নিয়ে শাসকদলকে তুলোধোনা শুভেন্দুর

কলকাতা: বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের (SIR) সময় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম হাজার হাজার মানুষের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন ‘বাংলায় SIR হতে দেব না’। এরপর লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও-এর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের মত ১২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যেই SIR প্রক্রিয়া শুরু হল, তাতে সুপ্রিমো সহ তৃণমূল কংগ্রেস স্বানন্দে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু ভয় দেখাচ্ছে সসাধারন মানুষকে।

Advertisements

শনিবার এক্সে এই অভিযোগে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি লেখেন, “মাসের পর মাস ধরে তৃণমূলের গুন্ডারা বিএলও-দের হুমকি দিয়ে আসছে। হিন্দু-মুসলিম স্মরণার্থীদের SIR মানে NRC বলে ভয় দেখাচ্ছে। সিএএ-এর জন্য আবেদন করলে সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে বলে ভুলপথে চালনা করছে। কিন্তু নিজেদের বেলায় ঠিকই বিএলও-দের থেকে ফর্ম নিয়ে সেই ফর্মের সঙ্গে সেলফি তুলছেন তৃণমূলের বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রীরা”। শুভেন্দুর তোপ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস মানেই হল ভন্ডামি”!

   

https://x.com/SuvenduWB/status/1987113065616449570

বলা বাহুল্য, বঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনের ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে থেকেই শাসক-বিরোধীর বিতর্কের ঝড় অব্যাহত। ৪ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শুরু হওয়ার পর বিতর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছে। গোড়ায়, বঙ্গে কোনভাবেই এসআইআর ঢুকতে দেওয়া হবে না বললেও ধীরে ধীরে সুর নরম করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সহ দলের নেতা-মন্ত্রীদের তরফে একাধিকবার দাবী কড়া হয়েছে যে তাঁরা এসআইআর-এর বিরোধী নন। কিন্তু বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে শিখণ্ডী করে ঘুরপথে এনআরসি ঢোকাচ্ছে। তাই তাঁদের এই বিরোধিতা। অন্যদিকে, এসআইআর শুরুর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে বিএলও-র এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া নিয়ে একপ্রস্থ জল্পনা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলে চলতি সপ্তাহেই।

পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সাফ জানানো হয়, বিএলও শুধুমাত্র তাঁর ফর্ম দিতে গিয়েছিলেন এবং বাংলার সব মানুষ ফর্ম পূরণ না কড়া পর্যন্ত তিনিও ফর্ম জমা দেবেন না। যদিও, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি এমনিতেই রেজিস্টার ভোটার। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় তাঁর অংশগ্রহণ না করলেও চলবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ? গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার্থে তাঁদের ফর্ম পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

হিন্দু-মুসলিমদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস

এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও লেখেন, “যে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর হতে দেব না বলেছিলেন, তিনি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে বিএলও-র কাছ থেকে এনুমারেশন ফর্ম নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলা শিরোনাম দিয়ে সেই কথা প্রকাশ করেছে।”

শুভেন্দু আরও লেখেন, “টিএমসি বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রীরা, সকলেই এসআইআর ফর্মের সাথে সেলফি পোস্ট করছেন। এমনকি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কে কত বেশি সহযোগিতা করছেন তা প্রমাণ করার রীতিমত হিড়িক পড়ে গেছে! তাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন, স্বাক্ষর করেছেন, মেনে নিয়েছেন। কিন্তু মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন”।

“মুসলিমদের বোঝানো হচ্ছে SIR মানে NRC। আর হিন্দুদের বোঝানো হচ্ছে, CAA তোমাদের শেষ করে দেবে”, বলেন শুভেন্দু। তিনি আরও লেখেন, “নির্লজ্জ দ্বিচারিতা। এটা নেতৃত্ব নয়। এটা প্রতারণা। তৃণমূল কংগ্রেস ভয়, মিথ্যাচার এবং ভোটব্যাংক সুসংহত করার জন্য ভয় ছড়িয়ে কাজ করে। বাংলার মানুষ, নিজেরাই দেখুন, মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে এক কথা বলেন, ঘরে ঠিক তার বিপরীত কথা বলেন।”

Advertisements