
রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়াল হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক মন্তব্যে। এক প্রকাশ্য কর্মসূচিতে তিনি সরাসরি রাজ্যের শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আসন্ন নির্বাচনী সমীকরণ, বিরোধী রাজনীতির কৌশল এবং শক্তি প্রদর্শনের ঘোষণা। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, “২২টি সিটে খাতা খুলে দেখাবেন।” অর্থাৎ তাঁর মতে, নির্দিষ্ট আসনগুলিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে তারা বাস্তব ফল দেখাতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে তিনি বিজেপির নির্বাচনী কৌশল নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, বিজেপির যে কৌশল এবং অর্থবল রয়েছে, তাতে তারা “২-১টা সিট বাড়িয়ে নিতে পারে।” তবে সামগ্রিকভাবে তিনি মনে করেন, এই বাড়তি আসন রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিকে বদলে দিতে পারবে না।
সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ, যেখানে তিনি বলেন, “আমি বেঁচে থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে জিরো করব।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক ভাষায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতীকী ভাষা, তবু শাসকদলের তরফে এই বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী জানুয়ারি মাসে ব্রিগেড ময়দানে এক বিশাল জনসভা করবেন। তাঁর বক্তব্য, এই সভার মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থন প্রমাণ করবেন। “আগামী জানুয়ারি মাসে ব্রিগেড ময়দানে সভা করে দেখাব,”—এই ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ ব্রিগেড ময়দান বরাবরই বড় রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
তিনি আরও বলেন, “পারলে হুমায়ুন কবীরকে রুখে দেবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত বিরোধীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজনীতিতে তাঁকে আটকানো সহজ হবে না এবং মাঠের লড়াইয়ে তিনি পিছিয়ে পড়বেন না। এই বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস যেমন স্পষ্ট, তেমনই রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিতও মিলছে।









