
কলকাতা: আগেই ঘোষণা করেছিলেন ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir new party)। কথা রেখে নয়া দল ঘোষণা করলেন তিনি। হুমায়ূনের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি। শুধু দল নয় প্রার্থী নির্বাচনেও বড় চমক দিলেন হুমায়ুন। সবাই মনে করেছিলেন যে তিনি যে প্রার্থী দেবেন তারা সকলেই সংখ্যালঘু হবেন। কিন্তু না ঘোষণা করা ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন হিন্দু মহিলা প্রার্থী দিয়ে চমক দিলেন হুমায়ুন কবির।
বালিগঞ্জ লড়বেন নিশা চ্যাটার্জী এবং মুর্শিদাবাদ বিধানসভার প্রার্থী হচ্ছেন মনীষা পান্ডে। সভামঞ্চ থেকে হুমায়ূন কবির জানান, তার দল উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে এগোবে। সংখ্যালঘু অধিকারের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাই দলের লক্ষ্য। এই বার্তা দিতেই প্রার্থী নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষতার ছোঁয়া দিয়েছেন তিনি। ঘোষিত ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি নাম হল কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নিশা চ্যাটার্জী এবং মুর্শিদাবাদের একটি কেন্দ্র থেকে মনীষা পান্ডে।
একগুচ্ছ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে চমক হুমায়ুনের
দুজনেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। বালিগঞ্জের মতো শহুরে ও মিশ্র জনসংখ্যার আসনে নিশা চ্যাটার্জীকে প্রার্থী করায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য পড়ে গেছে। অনেকে এটাকে হুমায়ূনের কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন যাতে তার দলকে শুধু সংখ্যালঘু-কেন্দ্রিক বলে চিহ্নিত না করা যায়।হুমায়ূন কবিরের রাজনৈতিক যাত্রা নতুন নয়। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থেকে বিধায়ক তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন, কিন্তু দলের সঙ্গে মতবিরোধ এবং বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সাসপেন্ড হন।
তারপর থেকেই নতুন দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। বাবরি মসজিদের মতো মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। কিন্তু এবার প্রার্থী তালিকায় হিন্দু প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে তিনি দেখিয়ে দিলেন যে, তার দল সব সম্প্রদায়ের জন্য। এই চমকের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও কলকাতার মতো এলাকায় যেখানে সংখ্যালঘু ও হিন্দু ভোটারদের মিশ্রণ রয়েছে।
জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীক হিসেবে হুমায়ূন ‘টেবিল’ চিহ্ন চাইবেন বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ার সময় এই প্রতীকই ছিল তার। দলের লক্ষ্য ২০২৬ নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে নির্ণায়ক শক্তি হওয়া। হুমায়ূন দাবি করেছেন, তার দল ছাড়া কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তিনি বাম-কংগ্রেস-আইএসএফের সঙ্গে সমঝোতার কথাও বলেছেন, যাতে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করা যায়।










