
কলকাতা: সোমবার মুর্শিদাবাদে রীতিমতো চমক দিয়ে নিজের নতুন রাজনৈতিক (Humayun Kabir)দল জনতা উন্নয়ন পার্টি–র আত্মপ্রকাশ করেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুধু দল ঘোষণা নয়, মঞ্চ থেকেই প্রকাশ্যে আনেন ১০ জন প্রার্থীর তালিকা। সেই তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল দুই হিন্দু মহিলা প্রার্থীর নাম। বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে নিশা চট্টোপাধ্যায় এবং মুর্শিদাবাদ বিধানসভায় মনীষা পান্ডেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন হুমায়ুন।
কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় এই ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। মঙ্গলবার সকালে জানানো হয়, বালিগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য ঘোষিত প্রার্থী নিশা চট্টোপাধ্যায়কে আর প্রার্থী করা হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সরাসরি নিশার সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি ও ভিডিয়ো কনটেন্ট–কেই দায়ী করেছেন দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
পুলিশের লাঠিচার্জে বেকবাগান মিছিল রক্তাক্ত, হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা আহত
হুমায়ুনের বক্তব্য, নিশার একাধিক ভিডিয়ো ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যার রুচি ও উপস্থাপনা দলের আদর্শ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না। তাঁর কথায়, “দলের একটা ভাবমূর্তি থাকে। নিশার চরিত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে তিনি ভাইরাল, তা আমাদের দলের ভাবনার সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে আরও একাধিক বিতর্কিত দাবি-পাল্টা দাবি। হুমায়ুন কবীর জানান, নিশার নাম তাঁর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠান ইকবালপুরের তৃণমূলের যুবনেতা সামিয়ান চৌধুরি। তাঁকে জানানো হয়েছিল, ২৯ বছরের নিশা চট্টোপাধ্যায় একজন ‘সেলিব্রিটি’ এবং বালিগঞ্জের বাসিন্দা। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নাকি নিশার নাম ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর কথায়, তাঁকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার কথা জানানোই হয়নি। হঠাৎ করেই সংবাদমাধ্যমে নিজের নাম দেখে তিনি ভীষণভাবে অবাক হয়ে যান। নিশার বক্তব্য, “আমি নিজেই সারপ্রাইজড। কেউ আমাকে প্রার্থী হওয়ার কথা বলেনি।”
সোমবার নিশার নাম ঘোষণার পর থেকেই সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে তাঁর নানা ছবি ও ভিডিয়ো। সেখানেই স্পষ্ট হয়ে যায়, নিশা কোনও পরিচিত সেলিব্রিটি নন, বরং তিনি একজন রিলস মেকার। মূলত ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে শর্ট ভিডিয়ো বানিয়েই তাঁর পরিচিতি।
এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দর ও বাইরের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। শেষমেশ সেই চাপেই নিশাকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর আরও দাবি, “রাজনীতিতে সবকিছু গ্রহণযোগ্য নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হলেই কেউ যোগ্য প্রার্থী হয়ে ওঠে না।”
নতুন দল গঠনের এক দিনের মধ্যেই এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়া জনতা উন্নয়ন পার্টির জন্য অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে নারী প্রার্থী, ধর্মীয় সমীকরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে উঠে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক যাত্রা যে শুরুতেই কাঁটায় ভরা, তা এই প্রার্থী বদলের ঘটনাতেই স্পষ্ট। আগামী দিনে তাঁর দল কতটা সংগঠিতভাবে এগোতে পারে, নাকি এমন বিতর্ক বারবার মাথাচাড়া দেবে সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।










