স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে বাংলাদেশিদের নিশ্চিহ্ন করার শপথ মামার

গুয়াহাটি: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও বেআইনি দখল নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল অসম সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট…

himanta-biswa-sarma-warning-illegal-bangladeshi-encroachment-assam

গুয়াহাটি: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও বেআইনি দখল নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল অসম সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন রাজ্যের জমি, বনভূমি ও পরিচয় নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। বেআইনিভাবে দখল করা জমি ও বনাঞ্চল অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দিয়ে তিনি একে “শেষ সতর্কতা” বলে আখ্যা দেন।

Advertisements

এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা বেআইনিভাবে অসমের জমি ও বন দখল করে আছে, তাদের আর সময় দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “এটা শেষ বার্তা। আইনকে অগ্রাহ্য করলে এই সরকার কতটা কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়, তা সবাই জানে।” এই বক্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে এই বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

   

অসম সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের একাধিক এলাকায় বনভূমি ও সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে আছে। প্রশাসনের মতে, এই দখলের বড় অংশের সঙ্গেই অবৈধ অনুপ্রবেশের যোগ রয়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আগেও একাধিকবার বলেছেন, অনুপ্রবেশ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামোর উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে ‘নন-নেগোশিয়েবল’ শব্দটি। তিনি বলেন, “অসম আপস করবে না না জমির প্রশ্নে, না বনভূমির প্রশ্নে, না আমাদের পরিচয়ের প্রশ্নে।” তাঁর দাবি, আইন মেনে যারা রাজ্যে বসবাস করছেন, তাদের কোনও ভয় নেই। কিন্তু বেআইনি দখল ও অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।

এই বক্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিজেপি শিবিরের মতে, এটি ‘রুল অব ল’-এর প্রতি সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ বেআইনি দখল ও অনুপ্রবেশের সমস্যায় ভুগছেন। সরকার এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ধরনের কড়া বার্তা যেন মানবিক দিক উপেক্ষা না করে। তাদের বক্তব্য, আইন প্রয়োগ করতে হবে ঠিকই, তবে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। যদিও অসম সরকার বারবার জানিয়েছে, প্রতিটি পদক্ষেপ আইন ও আদালতের নির্দেশ মেনেই নেওয়া হবে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেআইনি দখল চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বন দফতর, রাজস্ব বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান চালাবে। সরকারের দাবি, আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই উচ্ছেদ করা হবে, যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের সামনে এই বক্তব্য দেওয়া কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত কৌশলেরই ইঙ্গিত। সীমান্তবর্তী রাজ্য অসমে অনুপ্রবেশ ইস্যু দীর্ঘদিনের এবং জাতীয় রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই ‘নো-ননসেন্স’ বার্তা আগামী দিনে প্রশাসনিক অভিযানের গতি আরও বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, অসম সরকারের অবস্থান স্পষ্ট আইনের শাসন বজায় থাকবে, বেআইনি দখল ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “রুল অব ল প্রিভেইল করবে” এই বার্তাই এখন রাজ্য প্রশাসনের মূল সুর।

Advertisements