বিধানসভায় মুসলিম আসন সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্কিত হিমন্ত

গুয়াহাটি: অসমের রাজনৈতিক মহলে ফের ঝড় উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে, অসম কংগ্রেসের…

himanta-biswa-sarma-muslim-reservation-controversy

গুয়াহাটি: অসমের রাজনৈতিক মহলে ফের ঝড় উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে, অসম কংগ্রেসের সভাপতির একজন ঘনিষ্ঠ নেতা বলেছেন বিধানসভার ৪০ শতাংশ আসন মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত করা উচিত। এই দাবি প্রকাশ্যে এনে হিমন্ত বলেছেন, “এটি কংগ্রেসের তোষণ নীতির আসল চেহারা উন্মোচিত করেছে।”

Advertisements

এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দীর্ঘদিন ধরেই অসমে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ইস্যু তুলে ধরছেন। তাঁর মতে, অসমে মুসলিম জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্বাধীনতার সময় ছিল মাত্র ১২-১৫ শতাংশ। এই বৃদ্ধির পিছনে তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং কংগ্রেসের ‘তোষণ নীতি’কে দায়ী করেন।

   

দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, দিল্লিতে GRAP-iv বিধিনিষেধ বাতিল

এবারের বক্তব্যে তিনি সরাসরি কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেছেন যে, দলটি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের জন্য এমন দাবিকে সমর্থন করে, যা রাজ্যের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার কেড়ে নেবে। “কংগ্রেসের এই নীতি অসমের স্বত্ব এবং সংস্কৃতির উপর হুমকি,” বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।অসম কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ তীব্রভাবে খণ্ডন করেছে। দলের সভাপতি ভূপেন বরা এবং অন্যান্য নেতারা বলেছেন যে, এটি বিজেপির ‘বিভাজনের রাজনীতি’র অংশ।

কোনও নেতা এমন দাবি করেননি, এবং এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার। কংগ্রেসের মতে, হিমন্ত নিজে একসময় কংগ্রেসে ছিলেন, এখন বিজেপিতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। দলটি দাবি করেছে যে, তারা সব সম্প্রদায়ের উন্নয়ন চায়, কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের তোষণ নয়। এছাড়া, সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে আসন সংরক্ষণের কোনও বিধান নেই, তাই এমন দাবি অসম্ভব।

এই বিতর্ক অসমের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অসমে মুসলিম জনসংখ্যা ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে ৩৪ শতাংশের কাছাকাছি, এবং অনেকে মনে করেন যে, এই ইস্যু বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করার কৌশল। হিমন্তের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন এনআরসি আপডেট এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বলছে যে, এই ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে।

Advertisements