সন্তান উৎপাদনে মুসলিমদের সঙ্গে পাল্লা দিতে বলে বিতর্কিত মুখ্যমন্ত্রী

গুয়াহাটি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma)এক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যেসব…

himanta-biswa-sarma-muslim-birthrate-comment-assam

গুয়াহাটি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma)এক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় মুসলিমদের জন্মহার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে হিন্দু পরিবারগুলিকে এক সন্তানে থেমে না থাকার কথা ভাবতে হবে। তাঁর কথায়, “না হলে ভবিষ্যতে পরিবার দেখাশোনার মতো কেউ থাকবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Advertisements

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দীর্ঘদিন ধরেই অসমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে সরব। তাঁর দাবি, কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও সেই সুরই শোনা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, জনসংখ্যাগত বাস্তবতা উপেক্ষা করলে পরিবার কাঠামো ও সমাজব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

   

খালেদাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা যাচ্ছেন জয়শঙ্কর

তবে এই মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দল কংগ্রেস, এআইইউডিএফ-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে “বিভাজনমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বশীল পদে থেকেও ধর্মের ভিত্তিতে জনসংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করে সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছেন। তাঁদের মতে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ একটি নীতিগত ও আর্থসামাজিক বিষয়, সেখানে ধর্ম টেনে আনা উচিত নয়।

সমালোচনার জবাবে বিজেপি শিবির অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করেছে। রাজ্য বিজেপির এক নেতার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেননি, বরং বাস্তব পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর মতে, অসমে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উপর পড়ছে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের মন্তব্য বিজেপির পরিচিত কৌশলেরই অংশ। জনসংখ্যা, অনুপ্রবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এই বিষয়গুলি রাজ্যের ভোটরাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য সেই আলোচনাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, জন্মহার বা পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তা যেন কোনওভাবেই ধর্মীয় বিদ্বেষ বা সামাজিক বিভাজনের দিকে না যায়। তারা মনে করছে, এই ধরনের মন্তব্য সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়াতে পারে।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলছেন, পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। আবার অনেকেই মনে করছেন, সন্তানসংখ্যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সেখানে রাজনৈতিক নেতাদের এইভাবে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত। অসমে জনসংখ্যা ও জনবিন্যাস পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল ইস্যু। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে এই প্রসঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে আরও তর্ক-বিতর্ক চলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisements