HomeBharatPoliticsমালদায় মার খেয়ে হাসপাতালে BLO! কাঠগড়ায় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী

মালদায় মার খেয়ে হাসপাতালে BLO! কাঠগড়ায় তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী

- Advertisement -

মালদা: ভোটের আগে বিশেষ তালিকাভুক্তি অভিযান (SIR) ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যে মালদার হারিশ্চন্দ্রপুর থেকে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসার (BLO) নীবেদিতা মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী কমল মণ্ডলকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে এলাকার তৃণমূল নেতা মোহাম্মদ কাশিমউদ্দিনের নাম। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে—SIR প্রক্রিয়ায় ‘দলীয় নির্দেশ’ না মানায় এই হামলায় অভিযুক্ত কাশিমউদ্দিন অংশ নেন।

পরিবারের অভিযোগ, নীবেদিতা মণ্ডলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মৃত ভোটারদের জীবিত হিসেবে দেখাতে এবং বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে। নীবেদিতা এই কাজ করতে অস্বীকার করায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় শুক্রবার রাতে, যখন তাঁর স্বামী কমল মণ্ডলকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি।

   

বিজেপির শক্ত ঘাঁটি খেজুরি’তে সমবায় সমিতি’র ভোটে জোড়াফুল ঝড়

এলাকা জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রতিবেশিদের বক্তব্য, নীবেদিতা দীর্ঘদিন ধরে সৎভাবে নিজের BLO–র কাজ করে আসছেন। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও তাঁদের দাবি। বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, “এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে SIR–এ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল। যেসব BLO আইন মেনে কাজ করতে চান, তাঁদের ওপর হামলা, হুমকি, চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

এই সপ্তাহের শুরুতেও অনুরূপ অভিযোগ উঠে আসে। বিজেপি দাবি করেছে, তৃণমূল নেতা জমিরুদ্দিন মোল্লা নাকি BLO দীপক মাহাতোকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। সেই ঘটনাও এখনো রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। তৃণমূল অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তৃণমূলের দাবি, “বিজেপি মিথ্যে গল্প বানিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। SIR নিয়ে কোনও রকম রাজনৈতিক চাপ তৃণমূল দেয় না।” তাঁদের যুক্তি—বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে সরকারি কর্মচারীরা নিরাপদ নন। BLO–দের ওপর লাগাতার চাপ, হুমকি, হামলা চলছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাগুলিকে পাত্তা না দিয়ে উলটো নির্বাচন কমিশনকেই দোষারোপ করছেন।”

ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বরাবরই চাপানউতোর থাকে। SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ভুয়ো ভোটার, অনুপ্রবেশকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা এসব অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাত চলছে।

মালদার এই ঘটনা সেই অস্থিরতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়েছে। এখন নজর থাকবে নির্বাচন কমিশনের দিকে। কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে BLO–দের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে কিনা, সেই দিকেও নজর থাকবে।

হারিশ্চন্দ্রপুরের ঘটনায় সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। আর পরিবারের দাবি “আমাদের দোষ ছিল না। নীবেদিতা শুধু আইন মেনে কাজ করতে চেয়েছিলেন। তাই আমরা হামলার শিকার হলাম।” রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত, প্রশাসন সতর্ক, আর সাধারণ মানুষের চোখ এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

- Advertisement -
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular