SIR শেষের পথে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় কত ভুয়ো ভোটার মোদী রাজ্যে ?

gujarat-sir-duplicate-voters-election-commission-report

গান্ধীনগর, ১০ ডিসেম্বর: গুজরাটে যখন স্পেশাল ইনটেনসিভ (Gujarat SIR bogus voters list)রিভিশন (SIR) প্রায় শেষের মুখে, তখন নির্বাচন কমিশনের তালিকা থেকে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যে মোট ১১ লক্ষ ৫৮ হাজার ডুপ্লিকেট বা ভুয়ো ভোটারের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে! এই সংখ্যাটা শুনে প্রথমে অনেকেই চোখ কপালে তুলেছেন। কিন্তু গুজরাটের চিফ ইলেকটোরাল অফিসার (সিইও) পি. ভারতী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “এসআইআর কাজের ৯৯.৯৭ শতাংশ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় আমরা যে ১১.৫৮ লক্ষ ডুপ্লিকেট এন্ট্রি পেয়েছি, তা মূলত একই ব্যক্তির নাম বিভিন্ন বুথে বা বিভিন্ন স্পেলিংয়ে বারবার ঢোকা। এর মধ্যে ইচ্ছাকৃত জালিয়াতির সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।”গুজরাটে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫.২ কোটি। তার মধ্যে ১১.৫৮ লক্ষ ডুপ্লিকেট মানে প্রায় ২.২ শতাংশ। সিইও জানিয়েছেন, এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ফেসিয়াল রিকগনিশন টেকনোলজি, আধার-ইপিক লিঙ্কিং এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) হাউস-টু-হাউস ভেরিফিকেশন।

   

লোকসভায় অমিত শাহের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নিরুত্তর বিরোধীরা

ফলে যাঁরা বিয়ের পর মেয়ের নামে বদলে গেছে, যাঁরা এক জেলা থেকে আরেক জেলায় চলে গেছেন, অথবা যাঁদের নাম ‘রমেশকুমার পটেল’, ‘রমেশ পটেল’, ‘আর.কে. পটেল’ এই তিন রকমভাবে ঢুকে গিয়েছিল, তাঁদের সবাইকে একই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।সিইও অফিস সূত্রে খবর, এই ১১.৫৮ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৭.৫ লক্ষই এই ধরনের টেকনিক্যাল ডুপ্লিকেট।

বাকি ৪ লক্ষের মধ্যে আবার অনেকেই মৃত ব্যক্তি, যাঁদের নাম এখনও তালিকায় ছিল। শুধুমাত্র ৪৭ হাজারের মতো এন্ট্রি সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক বুথে নাম তোলার প্রমাণ মিলেছে। এই ৪৭ হাজারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এফআইআর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।গুজরাট বিজেপির মুখপাত্র যমল বিহারী শাহ বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদীজির রাজ্যে ভোটের পবিত্রতা নিয়ে কোনো আপস নেই।

যে কোনো মূল্যে ভুয়ো ভোটার শূন্য করতে হবে। ৯৯.৯৭% কাজ শেষ মানে গুজরাট আবারও দেশের বুকে মডেল হয়ে উঠল।”কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শক্তিসিন গোহিল বলেছেন, “১১ লক্ষের বেশি নাম কাটা গেল, কিন্তু কতজন সত্যিকারের ভুয়ো আর কতজন বিরোধী এলাকার গরিব-গুর্বা মানুষের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা হলো, তার তদন্ত হওয়া দরকার।

আমরা নির্বাচন কমিশনে যাব।”তবে সিস্টার ভারতী জোর দিয়ে বলেছেন, “প্রতিটি মুছে ফেলা নামের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফর্ম-৭ জমা পড়েছে মাত্র ৮২ হাজার। বাকিরা কেউ আপত্তি করেননি। এটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন