ঘাটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালে (Ghatal Trinamool)তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাঁটিতে ফের বড়সড় ভাঙন। অজবনগর ২, মোহনপুর, মনসুকা ২ সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের শতাধিক মহিলা কর্মী-সমর্থক আজ বিজেপির পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন। ঘাটাল বিধানসভার বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জমকালো যোগদান সভায় নবাগত মহিলাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট।
উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা, মণ্ডল সভাপতি থেকে শুরু করে যুব মোর্চা ও মহিলা মোর্চার নেতৃত্ব। এই যোগদানকে কেন্দ্র করে ঘাটালের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।যোগদানকারী মহিলাদের মধ্যে রয়েছেন মৌটুসী হাইত, জোসনা খাড়া সহ অনেক পরিচিত মুখ। এরা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় ছিলেন কেউ বুথ স্তরের কর্মী, কেউ আবার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যপদ প্রার্থীও ছিলেন।
‘ভুল করে ফেলেছি, আমায় ক্ষমা করুন’,পটাশপুরে মঞ্চ থেকে ক্ষমা চাইলেন শিশির
তাঁরা জানিয়েছেন, তৃণমূলে থেকে আর কোনও লাভ নেই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নেতাদের অত্যাচার, উন্নয়নের অভাব এবং মহিলাদের অবহেলা তাঁদের বাধ্য করেছে দল ছাড়তে। মৌটুসী হাইত বলেন, “আমরা মহিলারা দলের জন্য রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করেছি। কিন্তু যখন দরকার পড়ে, কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ছাড়া আর কিছু হয় না। রাস্তা-ঘাট, পানীয় জল, স্যানিটেশন কোনও সমস্যার সমাধান হয় না।
বিজেপিতে এসে নতুন আশা দেখছি। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলো সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছয়।” জোসনা খাড়া যোগ করেন, “আমাদের কথা কেউ শোনে না। গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়। বিজেপিতে এসে সম্মান পাব বলে মনে করছি।”যোগদান সভায় বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, “আজকের এই যোগদান প্রমাণ করে যে ঘাটালের মহিলারা তৃণমূলের প্রতারণা বুঝে গেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের নামে প্রকল্প করে ভোট নেন, কিন্তু মহিলাদের ক্ষমতায়ন নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের সত্যিকারের ক্ষমতায়ন হবে। আমরা সবাইকে স্বাগত জানাই। আগামী বিধানসভা ভোটে ঘাটালে পদ্ম ফুটবেই।” তিনি আরও দাবি করেন, এই যোগদান কেবল শুরু। আগামী দিনে তৃণমূলের আরও অনেক কর্মী-সমর্থক বিজেপিতে যোগ দেবেন।
জেলা বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, মহিলাদের এই যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে।বিজেপির দাবি, ঘাটালের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। স্থানীয় উন্নয়ন না হওয়া, কাটমানি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং মহিলা কর্মীদের অবহেলাই এর মূল কারণ। এক বিজেপি নেতা বলেন, “মানুষ দেখেছে, তৃণমূল ক্ষমতায় থেকেও কিছু করে না। মহিলারা এখন জেগে উঠেছেন। এটা বড় বার্তা।”
