অফিসারদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের গৃহীত শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্য অসন্তোষ জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, চারজন ইআরও (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) ও এইআরও (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-এর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে শুধু শাস্তির ধরন নিয়েই নয়, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করার কারণ সম্পর্কেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ মানেনি। কেন কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি, তার স্পষ্ট জবাব চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। কমিশনের (Election Commission) মতে, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া আবশ্যক। সেই জায়গাতেই রাজ্যের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছে কমিশন।
জানা গিয়েছে, এই চিঠিটি নির্বাচন কমিশনের তরফে লেখা হয়েছিল গত বছরের অগস্ট মাসে। চিঠিতে বিশেষভাবে বারুইপুর ও ময়নার ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজকর্মে গুরুতর অনিয়ম এবং কমিশনের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। সেই সময় নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, শুধুমাত্র সাসপেনশন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কমিশনের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হলে কমিশনের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ভোটার তালিকার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনও রকম গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা যায় না। তাই শুধুমাত্র প্রশাসনিক সাসপেনশন নয়, আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
চিঠিতে কমিশন (Election Commission) আরও উল্লেখ করেছে, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব একটি নির্দিষ্ট শাস্তিমূলক পদ্ধতি রয়েছে। সেই পদ্ধতি অনুসরণ না করে রাজ্য সরকার একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। চারজন ইআরও ও এইআরও-র ক্ষেত্রে কেন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়নি, তা বিস্তারিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে মুখ্য সচিবকে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
