পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা পৌরসভায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Egra municipality)। পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা স্বপন কুমার নায়েককে সরকারি জমি বেআইনিভাবে হস্তান্তর এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২ জানুয়ারি রাতে কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ এগরা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা।
বিরোধীরা এটাকে তৃণমূলের দুর্নীতির উদাহরণ বলে প্রচার শুরু করেছে, যখন তৃণমূল বলছে এটা দলের অন্দরে শুদ্ধিকরণের অংশ।অভিযোগের সূত্রপাত গত ২০ ডিসেম্বর। এগরা-১ ব্লকের বিএলআরও (ব্লক ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড রিফর্মস অফিসার) এগরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, পুরসভা এলাকার ‘খতিয়ান ১’-এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি জমি কোনও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এবং নথিহীন চুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তিগত লোকেদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
PULS রকেট সিস্টেম পাবে ভারতীয় সেনা, ২৯৩ কোটি টাকার অর্ডার পেল NIBE লিমিটেড
এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি জমিতে বেআইনি বাজার নির্মাণেরও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অবৈধভাবে জমি লিজ দেওয়া এবং রাজস্ব ক্ষতির প্রমাণ মেলায় স্বপন নায়েককে গ্রেফতার করা হয়েছে।” শনিবার তাঁকে কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।
স্বপন নায়েক দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা। এগরা পুরসভায় তৃণমূলের বোর্ড থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই অসন্তোষ ছিল। গত বছরের নভেম্বরে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করেন। এরপর তৃণমূলেরই ৬ জন কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। গত ২১ ডিসেম্বর অনাস্থা ভোট হয়, কিন্তু রাজনৈতিক কৌশলে তিনি পদ আঁকড়ে থাকেন।
এখন গ্রেফতারির পর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেবেন বলে জানা গেছে।বিরোধী দল বিজেপি এই গ্রেফতারিকে তৃণমূলের দুর্নীতির প্রমাণ বলে তুলে ধরছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, “সরকারি জমি করদাতাদের টাকায় কেনা। তা কম দামে বা বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত লোকেদের হাতে তুলে দিয়ে কাটমানি খাওয়া তৃণমূলের পুরনো অভ্যাস।
এগরায় এটা আরেকটা উদাহরণ। শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় তৃণমূলের এই কাণ্ড মানুষ দেখছে।” সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ব্যাপক প্রচার চলছে যে, তৃণমূল নেতারা সরকারি সম্পত্তি লুট করে নিজেদের পকেট ভরছেন। এক বিজেপি নেতা বলেন, “জনগণের টাকা তৃণমূলের পকেটে যাচ্ছে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।”
