বাংলায় বাবরি মসজিদ নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

dilip-ghosh-babri-masjid-statement-west-bengal-politics

কলকাতা ২৩ নভেম্বর: বাংলায় বাবরি মসজিদ ইস্যু নিয়ে ফের তপ্ত হল রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, আর সেই বিতর্কে পাল্টা বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির জাতীয় উপাধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ।

হুমায়ুন কবির বলেন মুর্শিদাবাদে ফের তৈরী হবে বাবরি মসজিদ এবং ৬ ডিসেম্বর তার ভিত্তি স্থাপন হবে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে ২ লক্ষ মানুষ। দিলীপ ঘোষ এই মন্তব্যেই সরব হয়ে দাবি করেছেন, দেশে কেউ কারও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিচ্ছে না, কিন্তু বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের দাবি তোলা দেশের স্বার্থের বিরোধী।

   

ক্ষুদ্র গ্রহাণুতে অবতরণ করার আগেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি জাপানি মহাকাশযান

শনিবার সাংবাদিকদের সামনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “দেশের কোথাও মসজিদ বা মন্দির বানাতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু তাই বলে বাবরি মসজিদ বানানো হবে এটা দেশদ্রোহিতা। কারণ বাবরি নিয়ে বহু বছর ধরে আন্দোলন হয়েছে, অসংখ্য মানুষের অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, বাবরি সংক্রান্ত মন্তব্য জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং সেটাই অনভিপ্রেত। দিলীপ ঘোষ বলেন হুমায়ুন বাবরের বদলে নিজের বাবার নামে মসজিদ তৈরী করতে পারেন। তাতে কেউ বিরোধিতা করবে না।

দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, ভারতের ইতিহাসে বাবর কোনও সম্মানের প্রতীক নন। তাঁর কথায়, “বাবর একজন আক্রমণকারী ছিলেন। দেশের মানুষ তাঁকে কোনও দিনই সম্মান করবে না।” যদিও তিনি কারও ধর্ম বা সম্প্রদায়কে আঘাত করার কথা নয় বলেই দাবি করেন, কিন্তু ইতিহাস ও সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে মন্তব্য করার পরামর্শ দেন।

বাবরি মসজিদ ইস্যু ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে অন্যতম সংবেদনশীল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল । অযোধ্যা জমি বিরোধ নিয়ে দেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং জনমানস দশকের পর দশক প্রভাবিত হয়েছে। ২০১৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পথ পরিষ্কার হয়, এবং মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই অধ্যায় অনেকাংশেই বন্ধ হয়েছে বলেই ধারণা ছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশের। কিন্তু সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই স্মৃতি আবার তাজা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় অভিসন্ধি বা অতীতের বিতর্ক তুলে আনার প্রবণতা ভোটের আগে নতুন নয়। কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ যখন উত্তেজনা ও মেরুকরণের আশঙ্কায় ভুগছে, তখন এইসব মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, যেকোনও সংবেদনশীল ঐতিহাসিক ইস্যু নিয়ে মন্তব্যের ক্ষেত্রে সব পক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

দিলীপ ঘোষ অবশ্য সাংবাদিকদের স্পষ্ট বলেন, “দেশে সবাই শান্তিতে থাকুক, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু অতীতের ক্ষত উসকে ভোটের রাজনীতি করা ঠিক নয়। দেশের ইতিহাস, মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মান থাকা জরুরি।” তাঁর মতে, দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানই হওয়া উচিত রাজনৈতিক বিতর্কের প্রধান বিষয়।

রাজনীতির মাঠে বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ পুরোনো হলেও, ব্যবহারের কৌশল কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রহর গুনছে রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী এবং শাসক উভয় পক্ষই একে অপরকে ধর্মীয় ইস্যুতে রাজনীতি করার অভিযোগ করছে। আর সাধারণ মানুষের মনেও দেখা দিয়েছে আশঙ্কা — এ ধরনের সংবেদনশীল অধ্যায় আবারও কি রাজনীতির ইন্ধন হয়ে উঠবে?

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন