
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Derek O’Brien) ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এবার সুপ্রিম কোর্টে একটি অন্তর্বর্তী আবেদন (IA) দায়ের করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এই আবেদনে তিনি নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক দিকনির্দেশ চেয়েছেন, যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ডেরেক ও’ব্রায়েনের আবেদনে মূলত এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা, যাচাই পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে এবং প্রক্রিয়াটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া প্রয়োজন। এই কারণেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
বিতর্কিত বক্তব্যে বঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিল শারজিল
আবেদনে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশ পিছিয়ে দেওয়া এবং সময়সীমা বাড়ানো। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের তরফে হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ডেরেক ও’ব্রায়েনের দাবি, এ ধরনের নির্দেশ আইনের আওতায় পড়ে না এবং তা বাতিল করা উচিত।
এছাড়াও তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ ক্যাটেগরি তুলে নেওয়া, সফটওয়্যার-ভিত্তিক ও কেন্দ্রীভূতভাবে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং ভোটার যাচাইয়ের সময় বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। পরিযায়ী ভোটারদের জন্য ভার্চুয়াল বা প্রতিনিধির মাধ্যমে শুনানির সুযোগ, প্রবীণ নাগরিক, অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে বসে বা ডিজিটাল যাচাইয়ের ব্যবস্থার কথাও আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা বন্ধ করা, ইআরও ও ডিইও স্তরের কড়া সময়সীমা শিথিল করা এবং স্থানীয় স্তরে শুনানি আয়োজনের দাবিও তোলা হয়েছে। একাধিক বাসস্থানের প্রমাণপত্র গ্রহণ এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না করার আবেদনও করা হয়েছে।
এই আবেদনের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে এই দাবিগুলি কি সত্যিই এসআইআর প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে, নাকি তা বিলম্বিত ও ব্যাহত করবে? বিরোধী শিবিরের একাংশের বক্তব্য, এই ধরনের আবেদন আসলে এসআইআর প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা। তাঁদের মতে, এর আগেও বিহারে এসআইআর চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মহুয়া মৈত্র সুপ্রিম কোর্টে একই ধরনের আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু সেবারও আদালত এসআইআর বন্ধ করেনি।
নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর সমর্থকদের দাবি, পরিষ্কার ও নির্ভুল ভোটার তালিকা ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। ভুয়ো, নকল, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম তালিকায় থাকলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাঁদের মতে, এসআইআর কোনওভাবেই ভোটার-বিরোধী নয়, বরং ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, প্রকৃত ভোটারদের অধিকার যাতে খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করতেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। রাজ্যের শাসক দলের বক্তব্য, প্রশাসনিক ত্রুটি বা তাড়াহুড়োর কারণে সাধারণ মানুষ যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পরিষ্কার ভোটার তালিকা বনাম ভোটারদের অধিকার এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়েই এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে রাজ্য ও জাতির রাজনৈতিক মহল।










