মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) তোপে ফের উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে ভোট, গণতন্ত্র, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, “বাংলা জিতলে দিল্লি কাড়ব। ওদের সরকার পড়ে যাবে।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেন, তবে তার প্রভাব শুধু বাংলায় নয়, দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও পড়বে। তাঁর মতে, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। সেই কারণেই তিনি শুধু নিজের দলের সমর্থকদের নয়, এমনকী যাঁরা এতদিন বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা BJP-কে ভোট দেন, তাঁদেরও অনুরোধ করব—ওদের ভোট দেবেন না। ওঁরা সব কেড়ে নিচ্ছে।”
ভয়ের রাজনীতি নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, কেউ যেন ভয় না পান। “কেউ ভয় পাবেন না। আমরা পাশে আছি,”—এই বার্তা দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে সাহস জোগানোর চেষ্টা করেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘জনগণের পাশে থাকার’ কথা এবং রাজ্যের প্রশাসন সাধারণ মানুষের স্বার্থেই কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শাসকদলের কাজের ধরন নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “ওরা টেলিভিশনে ভেসে থাকি, আমরা থাকি মাটিতে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে একদিকে কেন্দ্রীয় নেতারা মূলত প্রচারমুখী রাজনীতিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে রাজ্য সরকার মাঠে নেমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় উন্নয়নমূলক কাজ ও সামাজিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে আদমসুমারি না করে আগে SIR (Special Intensive Revision) করার প্রসঙ্গে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, সঠিকভাবে আদমসুমারি না হলে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। সেই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা বা অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্কার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “A টু Z পুরোটাই ব্লান্ডার।” অর্থাৎ গোটা প্রক্রিয়াটিই ভুলে ভরা বলে তিনি মনে করেন।
