দার্জিলিং মানেই সেখানকার বিখ্যাত গ্লেনারিজ বেকারি ও বার। বহু পর্যটক দার্জিলিং সফরে এসে গ্লেনারিজের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি না তুললে যেন সফরটি অসম্পূর্ণ মনে হয়। আরও বিশেষভাবে, সেখানকার ব্রেকফাস্ট অভিজ্ঞতা ছাড়া দার্জিলিং ট্যুরটা পূর্ণ হয় না। কিন্তু সম্প্রতি একটি নোটিসে বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটক এবং স্থানীয়রা দু’দিক থেকেই হতাশ হয়েছেন। পানশালায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং আগের মতো অতিথিদের সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
বরাবরের মতো বড়দিনের ছুটির সময় দার্জিলিং-এ পর্যটকের ভিড় বাড়তে শুরু করে। এই সময়ে বিদেশি এবং দেশি পর্যটকদের আগমন ঘটে এবং পর্যটন খাত সর্বাধিক ব্যস্ত থাকে। কিন্তু গ্লেনারিজের বার বন্ধ হওয়ায় পর্যটকরা বিশেষভাবে অবাক ও হতাশ হন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এবং হোটেল মালিকরাও উদ্বিগ্ন হন, কারণ গ্লেনারিজের বার ও বেকারির বন্ধ থাকা অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে। পর্যটকরা প্রায়শই গ্লেনারিজে ব্রেকফাস্ট নিয়ে সময় কাটাতে পছন্দ করেন, আর এই অভিজ্ঞতা না পাওয়ায় তাদের সফরের আনন্দ কিছুটা কমে যায়।
স্থানীয় পর্যটক পরিচালনা কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পরে সতর্ক হয়ে ওঠে। বড়দিনের আগে পর্যটক আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য নানা পরিকল্পনা থাকলেও গ্লেনারিজের বার বন্ধ থাকায় সেই পরিকল্পনার কার্যকারিতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে এই খবরে দ্রুত ভাইরাল হয়। অনেক পর্যটক এবং ফুড ব্লগার তাদের হতাশা প্রকাশ করেন।
তবে পর্যটকদের এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর আসে হঠাৎ। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বার চালু রাখার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। গ্লেনারিজের বার পুনরায় খোলার অনুমোদন মিলেছে, যা বড়দিনের আগে কার্যকর হবে। আদালতের এই রায়ের ফলে দার্জিলিং পর্যটন কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পর্যটকরা স্বস্তি পান। বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশে গ্লেনারিজের বার পুনরায় চালুর পথে।
