অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে জুতোপেটা খেলেন আদিবাসী BLO

dankuni-sir-blo-assault-bangladeshi-voter

কলকাতা: ডানকুনিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলাকালীন (Dankuni SIR)এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল হুগলির ডানকুনি পুরসভা এলাকায়। অভিযোগ, একজন মহিলা আদিবাসী বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-কে প্রকাশ্যে জুতো দিয়ে মারধর করা হয়েছে এক ভোটারের দ্বারা, যাকে স্থানীয়দের একাংশ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে দাবি করছেন।

ঘটনাটি ঘটে ডানকুনি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২১৮ নম্বর বুথে। শনিবার ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন BLO বিমলি টুডু বিভিন্ন ফর্ম যাচাই করছিলেন। সেই সময় আবদুল রহিম গাজি নামে এক ব্যক্তি ভোটার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, বচসা ক্রমশ হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যেই বিমলি টুডুকে জুতো দিয়ে মারধর করেন।

   

ভাঙড় চত্বরে ফের অশান্তি, আরাবুলের ছেলের গাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্ত গাজি নিজেকে ভোটার হিসেবে বৈধ প্রমাণ করতে না পেরে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বসবাস করলেও তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী কৌশলে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ঢুকিয়ে নিচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, অভিযোগ উঠেছে যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মী প্রকাশ্যে আক্রান্ত হলেও কেন অভিযুক্তকে আটক করা হল না? এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন (ECI) বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং BLO-র নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে SIR প্রক্রিয়ার একাধিক দুর্বল দিক। একদিকে এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আনছে কীভাবে ভুয়ো নথির মাধ্যমে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে BLO-দের নিরাপত্তাহীনতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মাঠে নেমে কাজ করা এই আধিকারিকরা প্রায়ই হুমকি, গালিগালাজ এমনকি শারীরিক আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত SIR সংক্রান্ত কাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে “অন-ডিউটি” নির্বাচন কাজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে এই ধরনের ঘটনার সময় BLO-রা প্রশাসনিক সুরক্ষা, আইনি সহায়তা কিংবা বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক BLO-ই মনে করছেন, তাঁদের কাজের গুরুত্ব স্বীকার না করায় তাঁরা কার্যত একা লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হোক এবং সরকারি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। না হলে ভবিষ্যতে SIR প্রক্রিয়া আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ডানকুনির এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মর্যাদা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন