পদ্মাপাড়ের হাত ধরে বাংলাও ভুলবে ছায়ানট? বিস্ফোরক বিজেপি

কলকাতা: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ইসলামপন্থী উন্মত্ততার নতুন (warning for West Bengal)ছবি সামনে আসতেই তা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল পশ্চিমবঙ্গেও। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক…

পদ্মাপাড়ের হাত ধরে বাংলাও ভুলবে ছায়ানট? বিস্ফোরক বিজেপি

কলকাতা: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ইসলামপন্থী উন্মত্ততার নতুন (warning for West Bengal)ছবি সামনে আসতেই তা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল পশ্চিমবঙ্গেও। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ভবনে ভাঙচুর চালায় একদল উগ্র ইসলামপন্থী।

Advertisements

রবীন্দ্রসঙ্গীত, বাংলা সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানের উপর হামলাকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। বরং তাঁর মতে, এটি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বাংলাদেশে যা ঘটছে, তার প্রতিফলন ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও দেখা যেতে পারে।

   

সেলিম পুত্রের পদবী সংক্রান্ত বিভ্রান্তি স্পষ্ট করল কমিশন

বিজেপি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ছায়ানট ভবনে হামলা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে একের পর এক সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ হয়েছে। কখনও প্রকাশ্য ভাঙচুর, কখনও হুমকি, আবার কখনও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা সব মিলিয়ে একটি ভয়াবহ প্যাটার্ন তৈরি হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “এভাবেই সমাজ ভেঙে পড়ে, যখন চরমপন্থাকে তোষণ করা হয় আর আইনহীনতাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হয়।”

এই প্রেক্ষাপটেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টানেন। বিজেপি নেতার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, প্রতিষ্ঠানগুলির দুর্বলতা এবং নীরবতা এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, “বাংলা গুটি গুটি এক ভয়ানক পথে এগোচ্ছে, ঠিক যেভাবে বাংলাদেশে আমরা দেখছি।”

বক্তব্যে আরও কড়া সুরে বলা হয়, ২০২৬ সালের পরেও যদি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাহলে তার পরিণতি হবে “অপরিবর্তনীয়”। বিজেপি নেতার মতে, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা এবং গণতন্ত্র এই তিনটি স্তম্ভ কখনও টিকে থাকতে পারে না, যদি রাস্তায় শাসন করে উন্মত্ত জনতা আর রাষ্ট্র নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায় থাকে।

ছায়ানট ভবনের উপর হামলা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ছায়ানট শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ও বাঙালি পরিচয়ের প্রতীক। সেই প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা মানে সরাসরি সংস্কৃতি ও মুক্ত প্রকাশের উপর আঘাত। বিজেপি নেতার দাবি, আজ যদি ঢাকায় এই ঘটনা ঘটে, কাল যদি কলকাতা বা অন্য কোনও শহরে ঘটে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই তুলনাকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা মাত্র। তিনি দাবি করেছেন , রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বয়ানের অংশ। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রতার ঘটনাগুলিকে সামনে এনে বিজেপি রাজ্যে ‘নিরাপত্তা বনাম তোষণ’ বিতর্ককে আরও জোরালো করতে চাইছে।

অন্যদিকে তৃণমূল চেষ্টা করছে বিষয়টিকে বহিরাগত প্রভাব ও রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে তুলে ধরতে। তবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যে প্রশ্নটি থেকে যায় বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা কি সত্যিই বাংলার জন্য সতর্ক সংকেত? ছায়ানট ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে সেই প্রশ্ন এখন শুধু ঢাকার নয়, কলকাতারও।

Advertisements