চন্দ্রকোনায় হামলার প্রতিবাদে ঝাড়গ্রাম ধিক্কার মিছিলে শুভেন্দু

chandrakona-road-attack-jhargram-protest

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা (Suvendu Adhikari)। চন্দ্রকোনা রোডে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলা বিজেপির ডাকে ধিক্কার মিছিল ও পরিবর্তন সংকল্প সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শালবনি বিধানসভা এলাকার চন্দ্রকোণা রোডে এই কর্মসূচি চলাকালীন তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের দ্বারা পরিকল্পিত প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ তুলে বিজেপি কর্মীরা সরব হয়েছেন।

Advertisements

গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬-এ পুরুলিয়া থেকে জনসভা সেরে ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ জাতীয় সড়ক ৬০-এর চারমোড়ে এই ঘটনা ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বাঁশ, লাঠি নিয়ে কনভয়ের গাড়িতে আঘাত করে, কাঁচ ভাঙার চেষ্টা করে এবং পেট্রোল ক্যান নিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে।

   

কাজের চাপ না আতঙ্কের রাজনীতি! BLO হামিমুলের মৃত্যতে রহস্য

শুভেন্দু নিজে এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, “এটা শুধু আমার ওপর হামলা নয়, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী কণ্ঠস্বরের ওপর আক্রমণ। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শাসনের অধীনে অপরাধীদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি পুলিশকে “মমতা পুলিশ” বলে অভিহিত করে বলেন, পুলিশ সামনে থেকেও নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিল।হামলার পর শুভেন্দু গাড়ি ঘুরিয়ে চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ বিট হাউসে পৌঁছান এবং মেঝেতে বসে ধর্না শুরু করেন।

দোষীদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে উঠবেন না বলে ঘোষণা করেন। রাতভর ধর্না চলে, পরে তিনি হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে মামলা করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও এই ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে।এই হামলার প্রতিবাদে ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপি ধিক্কার মিছিল বের করে। চন্দ্রকোণা রোড থেকে শুরু হয়ে শালবনি বিধানসভা এলাকা ঘুরে পরিবর্তন সংকল্প সভায় শেষ হয় এই কর্মসূচি।

বিজেপি নেতা-কর্মীরা স্লোগান দেন “তৃণমূলের দুষ্কৃত্য বন্ধ করো, গণতন্ত্র বাঁচাও”, “শুভেন্দুকে হামলা মানে বাংলার মানুষকে হামলা”। সভায় বক্তারা বলেন, এই হামলা পরিকল্পিত এবং তৃণমূলের ভয়ের প্রকাশ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তাই এই ধরনের আক্রমণ।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ। তারা বলছে, শুভেন্দুর কনভয়ের সঙ্গে থাকা সিআরপিএফ জওয়ানরা তাদের কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। তৃণমূল নেতারা দাবি করেন, বিজেপি কর্মীরা প্রথমে উস্কানি দিয়েছে। গড়বেতা থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগকে “ভুয়ো” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements