
উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় এসআই (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই চাকুলিয়া ব্লক (SIR) উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, অফিসের সামনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসআই প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ ও আপত্তি জানানোর(SIR) জন্য বহু মানুষ বিডিও অফিসের সামনে জমায়েত হয়েছিলেন। সেই সময়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী অফিস চত্বরে ঢুকে জানালার কাচ, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। অফিসের সামনে জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চাকুলিয়া থানার পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। (SIR) বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এসআই প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে উত্তেজিত করা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শুনানির নামে মানুষকে ডেকে এনে তাদের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যার ফলেই এই ধরনের অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব আরও অভিযোগ করেছেন, চাকুলিয়ায় তৃণমূল (SIR) কংগ্রেস কার্যত “ডাকাতি” চালাচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ঢাল করে সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এসআই সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও তালিকা নিয়ে অনিয়ম করা হচ্ছে এবং সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই সমস্ত অভিযোগের পিছনেই শাসকদলের মদত রয়েছে বলে দাবি বিজেপির। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসআই একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপিই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে উস্কে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁদের বক্তব্য, বিডিও অফিসে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার জেরে বিডিও অফিসের কাজকর্ম কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয়। বহু সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্রুত স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করা হবে এবং এসআই সংক্রান্ত কাজ নিরপেক্ষভাবেই সম্পন্ন করা হবে।




