
কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বাংলার জন্য ১০০ দিনের কাজের বরাদ্দ শূন্য থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে এই সত্য উন্মোচিত হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে এক টাকাও বাংলার জন্য বরাদ্দ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্বীকারোক্তি বাংলার হতদরিদ্র, শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে সংসদে একাধিকবার প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এর আগেও তিনি কেন্দ্রের ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম (মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্প) সম্পর্কিত অনিয়ম, অসম বরাদ্দ এবং বাংলার অবহেলার কথা তুলে ধরেছেন। আবারও তিনি প্রশ্ন করেছেন, এখনও পর্যন্ত বাংলার জন্য কত টাকা বাকি আছে এবং অন্যান্য রাজ্যগুলোর অবশিষ্ট বরাদ্দের তালিকা কী।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বীকারোক্তি স্পষ্ট করেছে যে, বাংলার বরাদ্দ এ অর্থবর্ষে একটাও দেওয়া হয়নি। অন্য সব রাজ্যের বরাদ্দ মিলিয়ে দেওয়া হলেও বাংলার নাম তালিকায় শূন্য রয়ে গেছে। এই বঞ্চনা বাংলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের আশা করে।
মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম (MGNREGS) ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প। এর আওতায় প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারকে বছরে ১০০ দিনের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় সুনিশ্চিত করা, দারিদ্র্য হ্রাস করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে বরাদ্দ শূন্য থাকার ফলে, এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বড় ধাক্কা লেগেছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য চেয়েছেন, যাতে জানা যায় বাংলার জন্য এখনও কত টাকা বাকি আছে এবং অন্যান্য রাজ্যগুলোর অবশিষ্ট বরাদ্দ কত। এর মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রের অনিয়ম এবং অসম বরাদ্দের প্রতি আলো ফেলার চেষ্টা করছেন। তিনি সংসদে জোর দিয়ে বলেছেন, “গ্রামীণ মানুষের উপরে এই ধরনের বঞ্চনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলার শ্রমিক ও দরিদ্র পরিবারদের জন্য বরাদ্দ শূন্য রাখা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।”






