ভোটের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে জরুরি বৈঠক

কলকাতা: বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় (Kolkata Police) কেন্দ্রীয় বাহিনী কতগুলি কোম্পানি মোতায়েন হবে এবং কোথায় তাদের রাখা হবে তা নির্ধারণ করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক…

Central Force Deployment in Kolkata a Key Agenda at Emergency Meeting

কলকাতা: বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় (Kolkata Police) কেন্দ্রীয় বাহিনী কতগুলি কোম্পানি মোতায়েন হবে এবং কোথায় তাদের রাখা হবে তা নির্ধারণ করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করছেন কলকাতা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যেই শহরের (Kolkata Police) প্রতিটি থানাকে চিঠি দিয়েছে লালবাজার, যাতে তারা তাদের এলাকা অনুযায়ী স্পর্শকাতর স্থান এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক থানাকে মঙ্গলবারের মধ্যেই এই তথ্য জমা দিতে হবে।

Advertisements

গত লোকসভা নির্বাচনে, ২০২৪ সালে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৪৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা কী হবে এবং তাদের অবস্থান কোথায় হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইতিমধ্যেই প্রশাসন সমস্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে। (Kolkata Police) বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায় স্থাপন করা হবে, সেই স্থানগুলোর পরিকাঠামো কেমন আছে এবং সেখানে বাহিনী রাখার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন কি না এগুলো বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে।

   

সাধারণত ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুল, কলেজ, অতিথিশালা, গেস্টহাউজ বা অন্যান্য সরকারি ও আধাসরকারি স্থানে রাখা হয়। এই স্থাপনাগুলি যেন নির্বাচনী এলাকা থেকে সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, সেজন্য প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকা অনুযায়ী স্পর্শকাতর স্থান চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থানের মধ্যে রয়েছে বাজার এলাকা, ব্যস্ত রাস্তা, রাজনৈতিক কার্যক্রম বেশি চলা স্থান, রেল ও মেট্রো স্টেশন, মল এবং প্রধান সড়ক। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তথ্য নির্বাচনী নিরাপত্তার পরিকল্পনা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (Kolkata Police) লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি থানাকে তার এলাকার স্কুল, কলেজ, অতিথিশালা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানের পরিকাঠামো যাচাই করতে বলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্কুল বা কলেজে পর্যাপ্ত জলসংযোগ, বিদ্যুৎ, সিঁড়ি, বাতাসের চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপযোগিতা কেমন তা বিবেচনা করা হবে। অতিথিশালা বা গেস্টহাউজে বাহিনী স্থাপনের জন্য থাকা কক্ষের সংখ্যা, খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসা সাপোর্টের বিষয়গুলোও যাচাই করা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী (Kolkata Police) শুধু শহরের নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি স্পর্শকাতর স্থানে যাতে দ্রুত পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে শেয়ার করা হলে ভোটকালীন নিরাপত্তা আরও কার্যকর হবে। এছাড়া, নির্বাচনী এলাকা থেকে বাহিনীর দ্রুত চলাচল, টহল ও তৎপরতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয় সহজ হবে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি, শহরের বিভিন্ন এলাকা তদারকির জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয় পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিষয়ও আলোচনা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন থানার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন নির্দিষ্ট এলাকা এবং স্পর্শকাতর স্থানগুলো চিহ্নিত করতে গিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয়। এছাড়া, এই রিপোর্টে প্রতিটি স্থানের পরিকাঠামো, বাহিনী স্থাপনের জন্য সুবিধা ও সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করতে হবে।

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনী একত্রে কাজ করে ভোটকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। স্কুল, কলেজ বা গেস্টহাউজে বাহিনী স্থাপনের বিষয়গুলো ঠিক মতো বাস্তবায়ন হলে ভোটের দিন ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এছাড়া, এই প্রস্তুতি রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

 

 

Advertisements