হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্তে বিপাকে বাংলাদেশি তৃণমূল নেত্রী

কলকাতা: বঙ্গের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য। কলকাতা হাইকোর্ট (High Court)রায় দিয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেত্রী আলো রানী সরকার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্র…

calcutta-high-court-verdict-tmc

কলকাতা: বঙ্গের রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য। কলকাতা হাইকোর্ট (High Court)রায় দিয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেত্রী আলো রানী সরকার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। এই রায়ের ফলে তার নির্বাচনী আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে এবং তিনি ভারতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে আদালত মনে করিয়েছে।

Advertisements

এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে, বিশেষ করে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন নিয়ে।আলো রানী সরকার ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি সংরক্ষিত) আসন থেকে লড়েছিলেন। বিজেপির স্বপন মজুমদারের কাছে প্রায় ২০০৪ ভোটে হেরে যান তিনি।

   

লিভ-ইন সঙ্গিনীকেও দেওয়া হোক স্ত্রীর স্বীকৃতি, বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জুন মাসে তিনি হাইকোর্টে একটা নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করেন, যাতে স্বপন মজুমদারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়ম, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে তার অফিস লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এই মামলার শুনানিতেই উলটো তার নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে।বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, আলো রানী সরকার বাংলাদেশের নাগরিক।

তার নাম বাংলাদেশের ভোটার লিস্টে রয়েছে এবং তিনি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের নাগরিক ডা. হরেন্দ্র নাথ সরকারের সঙ্গে বিয়ে করে সেখানে কয়েক বছর থেকেছেন। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে করে দুই বছরের বেশি সেখানে থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দফতর থেকে রিপোর্ট আসে, যাতে প্রমাণিত হয় যে, আলো রানীর নাম বাংলাদেশের নির্বাচকমণ্ডলীতে রয়েছে এবং তিনি সেখানকার নাগরিক।

২০২২ সালের ২০ মে বিচারপতি বিবেক চৌধুরী তার রায়ে স্পষ্ট বলেন, “নির্বাচনী মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন, নির্বাচনের দিন এবং ফল ঘোষণার দিন আলো রানী সরকার বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্বের কোনও সুযোগ নেই।” আদালত আরও বলে যে, পাসপোর্ট, ভোটার আইডি, প্যান কার্ড বা আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।

তিনি ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করেননি। ফলে তার পিটিশন খারিজ হয়ে যায় এবং আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।আলো রানী সরকারের দাবি ছিল যে, তিনি ১৯৬৯ সালে হুগলির বৈদ্যবাটীতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার পরিবার ভারতে চলে আসে।

বিয়ের পর বাংলাদেশে গিয়েছিলেন, কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পর ফিরে এসেছেন। তার নাম ভুল করে বাংলাদেশের ভোটার লিস্টে ঢুকে গিয়েছিল এবং ২০২০ সালে তিনি তা বাতিল করার আবেদন করেছেন। কিন্তু আদালত এই যুক্তি মানেনি, কারণ নির্বাচনের সময় তার নাম লিস্টে ছিল।

Advertisements