কলকাতা: একদিকে যখন স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (CAA citizenship) ঘিরে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক, অভিযোগ আর রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঠিক এই আবহেই মালদহের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে উঠে এল এক স্বস্তির খবর।
নাগরিকত্ব নিয়ে যখন মতুয়া সহ বিভিন্ন শরণার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসছে, তখন সিএএ-র মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে আশার আলো দেখালেন মালদহের হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা সত্যরঞ্জন বারুই।
ধৃতরাষ্ট্রকে হার মানিয়ে এক বাবার ৩৮৯ জন সন্তানের খোঁজ মিলল বঙ্গে
মালদহ জেলার হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বামনগোলা থানার চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুল্কীমারি গ্রামের বাসিন্দা সত্যরঞ্জন বারুই দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকত্বের অপেক্ষায় ছিলেন। বাংলাদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে বহু বছর আগে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। এখানেই সংসার, জীবন সবকিছু গড়ে উঠলেও এতদিন ভারতীয় নাগরিকত্ব পাননি। অবশেষে সিএএ-তে আবেদন করে পেলেন সেই বহু প্রতীক্ষিত নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট।
সত্যরঞ্জন জানান, তিনি গত বছরের আগস্ট মাসে সিএএ-র আবেদন জমা দেন। সেপ্টেম্বর মাসে হয় শুনানি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জানুয়ারি মাসে হাতে পান ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীএবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহযে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন, আজ তা বাস্তবে প্রমাণ হল। তাদের তরফে বলা হয়েছিল শরণার্থীদের কোথাও যেতে হবে না তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবে।
এই খবরে খুশির হাওয়া বয়ে যায় গোটা গ্রামজুড়ে। গ্রামের মানুষজন সত্যরঞ্জনের পাশে দাঁড়ান, তাঁর বাড়িতে এসে শুভেচ্ছা জানান। গ্রামবাসী মিঠুন বাগচী ও অখিলচন্দ্র কর বলেন, “আমরা সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস করি। নাগরিকত্ব নিয়ে আমাদের অনেক ভয় ছিল। আজ সত্যরঞ্জন নাগরিকত্ব পেয়ে প্রমাণ করে দিলেন, কেন্দ্র সরকার তাদের কথা রেখেছে।”
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়। খবর পেয়েই হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু সত্যরঞ্জনের বাড়িতে যান। তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানান। বিধায়কের বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেস সিএএ নিয়ে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আজ আবারও প্রমাণ হল, যারা সিএএ-তে আবেদন করছেন, তারা নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্যারান্টি বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “আমরা SIR-এর বিরুদ্ধে নই, আমরা তার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। আজ একজন সিএএ সার্টিফিকেট পেলেই সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না। বহু মানুষ আবেদন করেছেন, সবাই পাবেন কি না সেটাই দেখার।”
তবে রাজনৈতিক তরজা ছাপিয়ে সত্যরঞ্জনের নাগরিকত্ব পাওয়ার ঘটনা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বহু শরণার্থীর কাছে। SIR ঘিরে যখন আতঙ্কের বাতাবরণ, তখন এই ঘটনা অনেকের মনে বিশ্বাস জোগাচ্ছে যে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি।
