
কলকাতা: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (BLO death) শুরু হওয়ার পর থেকেই বঙ্গে একের পর এক বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনাটি হামিমুল ইসলামের মৃত্যু। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজ্যে প্রশাসনিক কর্মীদের উপর চলা ভয় ও সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতারই অংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, SIR চালু হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়ে অষ্টম BLO-র মৃত্যু। এই ঘটনাগুলি কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ঘটছে, তা নিয়েই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক চাপে ভেঙে পড়েই এই মৃত্যুগুলি ঘটছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এই ব্যাখ্যা আসল সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা।
১০ মিনিটে ডেলিভারির দিন শেষ! কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আপত্তিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ব্লিনকিট
হামিমুল ইসলামের মৃত্যুকে ঘিরে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এক দুষ্কৃতী, বুলেট খান, যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, হামিমুল ইসলামের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, টাকা ফেরত চাওয়ায় বারবার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
বিরোধীদের বক্তব্য, এই ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত দুষ্কৃতীদের আতঙ্কেই প্রশাসনিক কর্মী, শিক্ষক এমনকি সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের দাবি, “যেখানে একজন BLO-ই দিনের পর দিন হুমকির মধ্যে থাকেন, সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী, তা সহজেই অনুমেয়।”
এই প্রেক্ষিতে বিরোধীরা সরাসরি রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিটি BLO মৃত্যুর পর দায় এড়াতে ‘কাজের চাপ’-এর যুক্তি সামনে আনা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে মূল সমস্যা হল রাজনৈতিক সন্ত্রাস, আইনহীনতা এবং দুষ্কৃতীদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক রক্ষা-কবচ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, BLO বা শিক্ষকদের মতো সরকারি কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। যদি সেই প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে থাকেন, তবে কর্মীদের উপর চাপ এবং আতঙ্ক বহুগুণ বেড়ে যায়। এই কারণেই শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজের চাপ দিয়ে সব মৃত্যুর ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দলের একাংশের দাবি, BLO-দের উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো হয়েছে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক রঙ চড়িয়ে প্রশাসনিক বিষয়কে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে বলেও তাদের বক্তব্য। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যদি শুধুই কাজের চাপ দায়ী হয়, তাহলে একই ধরনের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও অন্য রাজ্যগুলিতে কেন এমন মৃত্যুর খবর নেই? কেন এই ঘটনাগুলি বারবার পশ্চিমবঙ্গেই ঘটছে?
হামিমুল ইসলামের মৃত্যু সেই প্রশ্নগুলিকেই আরও জোরালো করেছে। বিরোধীদের মতে, এটি কোনও ব্যতিক্রম নয়, বরং একটি প্যাটার্ন। যেখানে ভয়, হুমকি এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের জোরে এক শ্রেণির দুষ্কৃতী কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। আর সেই বাস্তবতাতেই BLO, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে পড়ছেন এমনটাই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।







