
ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিজেপি (BJP) দাবি করেছিল, সেখানকার ভোটার তালিকায় কোটির বেশি নাম বাদ যাবে, বাস্তবে সেই তুলনায় উত্তরপ্রদেশে শতকরা হিসাবে অনেক বেশি ভোটার নাম কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অমর্ত্যকে SIR শুনানির নোটিস! অভিযোগ অভিষেকের
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকা থেকে উত্তরপ্রদেশে মোট ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে ২ কোটি ১৭ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত, ৪৬ লক্ষ মৃত এবং ২৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ভোটার একাধিক স্থানে নাম রেজিস্টার করায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ, যে ভোটাররা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তারা কি আসলে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমানে রাজ্যের বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫ জন। ২০২৫ সালের অক্টোবরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, তত্কালীন সময়ে ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার ছিলেন। ফলে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ার সংখ্যা ২.৮৯ কোটি।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পিছনোর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল সাংসদ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা পড়ার ধরণও ইঙ্গিতবাহী। সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে এমন জেলা গুলি হল লখনউ (৩০ শতাংশ), গাজিয়াবাদ, কানপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মেরঠ, প্রয়াগরাজ ও আগ্রা। উল্লেখযোগ্য, এই সব জেলা বিজেপির শক্তকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে মুসলিম সংখ্যালঘু এলাকা যেমন মোরাদাবাদ, রামপুর, সাহারানপুর, মুজফফরপুর ও বিজনৌর এলাকায় নাম বাদের হার ১৫–১৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে ভোটার সংখ্যা হ্রাসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সমাজবাদি পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব জানিয়েছেন, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ৬০ হাজার ভোট কমছে বিজেপির পকেট ভোটের এলাকা থেকে। যা ভোট বাদ পড়ছে, তার বেশির ভাগই যোগী আদিত্যনাথের নিজের প্রভাবশালী এলাকা।”
রাজনীতিকদের মতে, এই হ্রাসের ধরণ ও অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য এবার বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভোটার তালিকার সংযোজন ও সংশোধনের এই প্রক্রিয়া আগামী নির্বাচনেও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।










