মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) রাজনৈতিক মানচিত্রে পুরনো ছবি দেখা মিলল। কল্যাণ-ডোমবিভলি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে একনাথ শিন্ডের শিবসেনাকে সমর্থন জানালেন রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। দুই পক্ষের এই জোটের লক্ষ্য একটাই, বিজেপিকে (BJP) মেয়র পদ থেকে বিরত রাখা।
কল্যাণ-ডোমবিভলি পুরভোটে মোট ১২২টি আসনের মধ্যে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা জিতেছে সর্বোচ্চ ৫৩টি আসনে। অন্যদিকে, বিজেপি ৫০টি আসনে জিতেছে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ৫টি এবং রাজ ঠাকরের এমএনএসও ৫টি আসন দখল করেছে। কংগ্রেসের হাতে ২টি ওয়ার্ড এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি ১টি আসন জিতেছে। বোর্ড গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬২টি আসন।
বিধানসভা নির্বাচনে কেষ্ট গড়ে শেষ হাসি কার? কি বলছে সমীক্ষা
রাজ ঠাকরের এমএনএসের সমর্থন পেলেও একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে আরও চারটি আসনের প্রয়োজন। শ্রীকান্ত শিন্ডে, প্রাক্তন এমএনএস সাংসদ, জানিয়েছেন, “শহরের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এই সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের কিছু জয়ী প্রার্থীও একনাথ শিন্ডের পাশে যেতে পারেন।”
মহারাষ্ট্রের বৃহন মুম্বই পুরনিগমেও এখন মেয়র পদ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সেখানে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা-বিজেপি জোট প্রায় তিন দশক পর ঠাকরেদের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করেছে। বিজেপি জিতেছে ৮৯ এবং শিন্ডের শিবসেনা ২৯ আসনে। জোটের মোট আসন সংখ্যা ১১৮। ২২৭ আসনের মধ্যে ১১৪ আসনের বেশি দরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি বিরোধীরা একনাথ শিন্ডের শিবসেনাকে সমর্থন দেয়, তবে বড় শহর মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিরোধী জোটের সুবিধা হতে পারে। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ৬৫, এমএনএস ৬, কংগ্রেস ২৪ এবং এনসিপি ১ আসনে জিতেছে। সেক্ষেত্রে বিরোধী জোটের আসন সংখ্যা ৯৬। একনাথ শিন্ডের সমর্থন পেলে ১১৪ ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করে ১২৫ আসনে পৌঁছানো সম্ভব।
রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “কল্যাণ-ডোমবিভলি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মতো ছোট মেয়র লড়াই থেকে বড় শহর মুম্বই পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই জোট কতটা কার্যকর হয়।” মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন জোট এবং কৌশলের এই খেলা ভবিষ্যতে আরও বড় দানা বাঁধতে পারে।
