কলকাতা: বাংলায় ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে (Birbhum)। সবার চোখ এখন বীরভূম জেলায়, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) শক্তিশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর গড়ে দলের আধিপত্য কতটা অটুট থাকবে। সাম্প্রতিক একটা প্রি-পোল সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, বীরভূমের ১১টা আসনের সবকটাতেই টিএমসি এগিয়ে রয়েছে, বিজেপি শূন্য হাতে ফিরতে চলেছে।
এই সমীক্ষা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, কারণ বীরভূম টিএমসির ‘অভেদ্য দুর্গ’ বলে পরিচিত।বীরভূম জেলায় ১১টা বিধানসভা আসন রয়েছে। বোলপুর, লাভপুর, নানুর, রামপুরহাট, হাঁসান, মুরারই, নলহাটি, সুড়ি, মহম্মদবাজার, ময়ূরেশ্বর এবং সাঁইথিয়া। ২০২১ সালের নির্বাচনে টিএমসি এই ১১টার মধ্যে ১০টা আসন জিতেছিল, শুধু বলপুরে সিপিএমের একটা আসন ছিল।
দেবকে হুমকি? ‘সেন্সর বোর্ডকে চমকানো হচ্ছে’, বিস্ফোরক অভিনেতা
কিন্তু এবারের সমীক্ষা বলছে, ১১/১১ আসনে টিএমসি এগিয়ে, বিজেপির ভাগ্যে শূন্য। এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে একটা স্বনামধন্য সংস্থা, যারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটারদের মতামত নিয়েছে। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, কেষ্টর প্রভাব এখনও অটুট। অনুব্রত মণ্ডল বর্তমানে গরু পাচার মামলায় জেলবন্দী হলেও, তার নির্দেশ ও সংগঠনের শক্তি জেলায় তৃণমূলের ভিত মজবুত রেখেছে।
সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, বীরভূমের ভোটারদের মধ্যে টিএমসির সমর্থন প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ, যেখানে বিজেপির ভোটশেয়ার মাত্র ২০-২৫ শতাংশ। বাকি ভোট ছড়িয়ে আছে সিপিএম, কংগ্রেস ও অন্যান্যদের মধ্যে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকে বলেছেন যে, মমতা ব্যানার্জির সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী বীরভূমের গ্রামীণ এলাকায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে দরিদ্র ও সংখ্যালঘু ভোটাররা এই প্রকল্পগুলোর জন্য টিএমসির প্রতি কৃতজ্ঞ। একজন স্থানীয় ভোটার বলেন, “কেষ্টদা না থাকলেও দিদির সরকার আমাদের পাশে আছে। বিজেপি শুধু কথা বলে, কাজ করে না।”বীরভূমে কেষ্টর গড়ের কথা বলতে গেলে অনুব্রত মণ্ডলের নাম না করে উপায় নেই। ২০১১ সাল থেকে তিনি টিএমসির জেলা সভাপতি, এবং তার নেতৃত্বে দল জেলায় অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে।
কিন্তু ২০২২ সালে গরু পাচার কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হওয়ার পর অনেকে মনে করেছিলেন যে, টিএমসির ভিত নড়ে যাবে। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম লোকসভা আসনে তৃণমূলের সত্যবান সাহা বিজেপির দেবতনু ভট্টাচার্যকে হারিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, কেষ্টর প্রভাব এখনও আছে। সমীক্ষায়ও সেই ছবি ফুটে উঠেছে। বিজেপি নেতারা যেমন শুভেন্দু অধিকারী বারবার বীরভূমে গিয়ে অনুব্রতকে নিশানা করেছেন, কিন্তু ভোটারদের মধ্যে সেই প্রভাব পড়েনি।
বিজেপির এক নেতা বলেন, “সমীক্ষা যাই বলুক, নির্বাচনের দিন অন্য ছবি দেখা যাবে। টিএমসির সন্ত্রাসের কারণে লোকেরা সত্যি কথা বলছে না।”অন্যদিকে, টিএমসির নেতারা এই সমীক্ষাকে স্বাগত জানিয়েছেন। জেলা সভাপতি (অস্থায়ী) অসিত মাল বলেন, “কেষ্টদার অনুপস্থিতিতেও আমরা ঐক্যবদ্ধ। দিদির নেতৃত্বে বীরভূম টিএমসির দুর্গ থাকবে।
বিজেপির কোনও চান্স নেই।” সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, বিজেপির ভোটশেয়ার কমছে কারণ তাদের স্থানীয় সংগঠন দুর্বল। ২০১৯ লোকসভায় বিজেপি বীরভূমে কিছু লিড পেয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনগুলোয় তা কমেছে। সিপিএমও এখানে দুর্বল, যদিও বোলপুরে তাদের কিছু সমর্থন আছে।
