ভাটপাড়ায় যুবককে পিটিয়ে খুন! দোষীদের প্রকাশ্যে আনলেন অর্জুন

কলকাতা: ভাটপাড়া এলাকায় একটি নৃশংস খুনের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় মহলে (Arjun Singh)তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। নোয়াপাড়া থানার অন্তর্গত গড়ুলিয়া, নূরী মসজিদের কাছে বাসিন্দা…

bhatpara-murder-arjun-singh-names-accused

কলকাতা: ভাটপাড়া এলাকায় একটি নৃশংস খুনের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় মহলে (Arjun Singh)তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। নোয়াপাড়া থানার অন্তর্গত গড়ুলিয়া, নূরী মসজিদের কাছে বাসিন্দা ৩৯ বছরের ইস্তিয়াক আহমেদ ওরফে বাবলুকে দিনের আলোয় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে অকল্যান্ড জুট মিলের কুলি লাইনে প্রথমে মারধরের পর ১৮ নম্বর গলিতে নিয়ে গিয়ে আবারও বেধড়ক পেটানো হয়, যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এই খুনের পেছনে রয়েছে ভাটপাড়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরের ছেলে নামিত সিং এবং তার ভাই মৃত্যুঞ্জয় সিং সহ একদল সঙ্গী।পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এটা শুধুমাত্র চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। ‘

Advertisements

বন্দে মাতরম বাজলেও কি এবার উঠে দাঁড়াতে হবে? জানুন কেন্দ্রের পরিকল্পনা

   

বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বলেছেন প্রধান অভিযুক্ত নামিত সিং এখনও তার বাড়ির সামনেই খোলামেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি খুনের পরের দিন সকালেও তাকে দেখা গেছে, কিন্তু পুলিশ যেন তাকে দেখতেই পাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে যে, তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রশাসন নামিত সিংকে পূর্ণ সুরক্ষা দিয়ে রেখেছে। নামিত একজন কুখ্যাত অপরাধী এনআইএ মামলায় অভিযুক্ত, আগেও একটি খুনের মামলায় জড়িত ছিল।

কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে সে অভেদ্য হয়ে উঠেছে বলে দাবি।এই ঘটনা জুম্মার দিন ঘটেছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত পবিত্র। ইস্তিয়াক আহমেদ একজন মুসলিম যুবক ছিলেন। অনেকে এটাকে ‘গুন্ডারাজ’-এর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের কোর ভোটব্যাঙ্ক মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও দলের গুন্ডাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। গত ১০ দিনে এই এলাকায় তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বাঁকুড়া সিটি পুলিশ যেন গভীর ঘুমে আছে।

অথচ তৃণমূলের কোনো নেতা বা মুসলিম নেতৃত্ব এই মুসলিম যুবকের খুন নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি। এই নীরবতা অনেকের কাছে হতাশাজনক। অভিযুক্তদের তালিকা দীর্ঘ। অর্জুন সিং নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেছেন। এতে রয়েছে নামিত সিং (পিতা মৃত বিষ্ণু সিং), মৃত্যুঞ্জয় সিং (পিতা মৃত বিষ্ণু সিং), সোনু জয়সওয়াল ওরফে তেলুয়া (পিতা ধর্মরাজ জয়সওয়াল), সোনু সিং ওরফে গোলু (পিতা অঞ্জনী সিং), মন্তু, মোহাম্মদ সাহিল, মোহাম্মদ প্রেম ওরফে বান্দরা (পিতা মোহাম্মদ সালিম ওরফে করফু)।

এছাড়াও আছে মোহাম্মদ সাহাদত হোসেন ওরফে কল্লু (পিতা মোহাম্মদ সালিম ওরফে করফু), রোহিত শaw ওরফে টাকলা (পিতা মৃত মতিলাল কড়ি), আদিত্য মিশ্র ওরফে বাবু, আখতার আলি (পিতা আলি আহমেদ), একু আলি (পিতা আলি আহমেদ), গোলু চৌধুরী, বদল, অভিষেক চৌধুরী ওরফে ডলি (পিতা সুনীল চৌধুরী), আশিস চৌধুরী (পিতা সুনীল চৌধুরী), অমিত সিং, ভোলু সিং, রাজেশ সিং, জিত ঘোষাল, মোহাম্মদ নাসিম ওরফে বাঙালি, মোহাম্মদ ইরফান, বাবু, চন্ডীসহ মোট ২৪ জন।

এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে বড় প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে কীভাবে অপরাধীরা সুরক্ষা পাচ্ছে? পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ গভীর হচ্ছে। একজন স্থানীয় ব্যক্তি এই অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বলেছেন যে, তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যদি আইনি সাহায্য চান, তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সবরকম সহায়তা করতে প্রস্তুত।

Advertisements