কলকাতা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা আজ সকাল থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি (Beldanga)। পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন পুরোপুরি অরাজকতায় রূপ নিয়েছে। জাতীয় সড়ক ১২ নম্বরে টায়ার জ্বালিয়ে, পাথর ছুঁড়ে অবরোধ চলছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে। রেললাইনও আটকে দেওয়া হয়েছে, ফলে ট্রেনের চাকা থমকে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন খাবার-জল ছাড়া,অপেক্ষা করছেন কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
এর মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “পরশু থেকে ফরাক্কা থেকে চাকুলিয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার অবনতি ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের মতো। বেলডাঙায় জাতীয় সড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে আগুন জ্বলছে বেলডাঙায়
অবিরাম পাথর ছোঁড়া চলছে। ট্রেন জোর করে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা এখন গুন্ডা, হুলিগান আর দাঙ্গাবাজদের দখলে। পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই। হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়ে ভয়ে কাঁপছে, খাবার-জল ছাড়া কোনো সাহায্য নেই।”
এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের সুজাপুরের বাসিন্দা আলাই শেখ (৩০)-এর মৃত্যু নিয়ে। ফেরিওয়ালার কাজ করতে গিয়ে বিহারের এক ভাড়া বাড়িতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বৃহস্পতিবার রাতে। পুলিশ প্রথমে আত্মহত্যা বললেও পরিবারের দাবি এটা খুন। শরীরে মারধরের চিহ্ন, হাত-পায়ে আঘাত, গলায় ফাঁসের দাগের সঙ্গে অন্যান্য চিহ্ন। শুক্রবার সকালে মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষোভ ফেটে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে অবরোধ শুরু করেন। দাবি একটাই দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে, পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।কিন্তু এই বিক্ষোভের মাঝেই পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পাথর ছোঁড়া, ট্রেন আটকে দেওয়া সব মিলিয়ে এলাকা যেন দুষ্কৃতীদের দখলে চলে গেছে। শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাচ্ছে।
সমাজবিরোধী ও দাঙ্গাবাজরা ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় যা খুশি তাই করছে। তিনি অভিনয়কারী ডিজিপি এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে বাহিনী মোতায়েন করে এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজ্যপাল ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরকেও ট্যাগ করে তিনি এই পরিস্থিতিকে “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার” উদাহরণ বলে তুলে ধরেন।
স্থানীয়রা অবশ্য বলছেন, এই ক্ষোভ শুধু একটা মৃত্যুর প্রতিবাদ নয়। বছরের পর বছর ধরে ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কখনও ভাষা-পরিচয় নিয়ে সন্দেহ, কখনও মারধর। পেটের দায়ে যাওয়া ছেলেরা ফিরছে না জীবিত হয়ে।
এই হতাশা আর অসহায়ত্ব জমে জমে একদিন ফেটে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের একজন বললেন, “আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু যখন একের পর এক আমাদের ভাই মরছে, তখন চুপ করে থাকা যায় না।”


