বলাগড়: বলাগড়ে বন্দরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Balagarh port)। ব্যাতিক্রমী ঘটনা হলেও এটাই সত্যি যে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ডাক পেয়েছিলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। কিন্তু আমন্ত্রণ পেয়েও কেন গড় হাজির তিনি। তার কারণ তিনি এই মুহূর্তে চেন্নাইতে আছেন। মনোরঞ্জন তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন তিনি এই মুহূর্তে দ্য হিন্দু পত্রিকার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন।
আর আজ এই অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতা দেওয়ার পালা। মনোরঞ্জন আরও বলেছেন যে তাকে ডাকা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদী কি বলেন তা শোনার জন্য। কিন্তু হিন্দু পত্রিকা তাকে ডেকেছে নিজের কথা বলার জন্য। আর ঠিক সেই কারণেই তিনি হিন্দু পত্রিকার অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেছেন বলেও লিখেছেন। একজন লেখক, দলিত সাহিত্যের পথিকৃৎ এবং জীবনের নানা সংগ্রামের সাক্ষী হিসেবে তিনি এই দ্বিতীয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সিঙ্গুরে পা রাখার আগেই মোদির নামে ‘ধোঁকা’র অভিযোগে পোস্টার! উত্তেজনা চরমে
তাঁর ভাষায়, নিজের কথা বলার সুযোগটা তাঁর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান এবং স্বাচ্ছন্দ্যের। মনোরঞ্জন ব্যাপারীর এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই অপ্রত্যাশিত নয়। যিনি একদা রিকশাচালক থেকে শুরু করে জেলখানায় লেখাপড়া শিখে, মহাশ্বেতা দেবীর অনুপ্রেরণায় লেখক হয়ে উঠেছেন, তাঁর কাছে কথা বলার স্বাধীনতা ও নিজস্ব কণ্ঠস্বর সবচেয়ে বড়।
তাঁর আত্মজীবনী ‘ইতিবৃত্তে চণ্ডাল জীবন’ দ্য হিন্দু পুরস্কার জিতেছে। তিনি দলিত সাহিত্যের অন্যতম কণ্ঠস্বর, যিনি বাংলায় জাতপাতের বৈষম্য নিয়ে খোলাখুলি লেখেন। সম্প্রতি চেন্নাইয়ের এই অনুষ্ঠানে তিনি ‘Nowhere People’ বই নিয়ে আলোচনা করছেন, যেখানে দলিতদের উপর অত্যাচার ও প্রান্তিকতার কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বলাগড় বন্দর প্রকল্পটি রাজ্যের অর্থনীতির জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। এটি কলকাতা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভ্যন্তরীণ জলপথের মাধ্যমে কার্গো পরিবহনকে আরও সহজ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে সিঙ্গুরে একাধিক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিক ক্যাটামারানের উদ্বোধন, নতুন রেললাইন এবং আমৃত ভারত ট্রেনের শুভ সূচনা। মোট প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজ্যের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মনোরঞ্জনের অনুপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি তৃণমূল বিধায়ক হলেও দলের অন্দরে বিভিন্ন সময়ে নিজের মতামত স্পষ্ট করে এসেছেন। কখনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, কখনও দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। এবারও তাঁর সিদ্ধান্ত তাঁর স্বাধীনচেতা মনোভাবেরই প্রতিফলন। একদিকে কেন্দ্রের আমন্ত্রণ, অন্যদিকে সাহিত্যের মঞ্চ দুটোর মধ্যে তিনি পরেরটাকেই বেছে নিয়েছেন, কারণ সেখানে তিনি শ্রোতা নন, বক্তা।
