‘বিজেপিকে ১০০ শতাংশ ওয়াকওভার দিয়েছে কংগ্রেস’: বদরুদ্দিন

গুয়াহাটি, অসম: অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (Badruddin)-এর প্রধান ও সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক বক্তব্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন,…

badruddin-ajmal-congress-bjp-walkover-claim

গুয়াহাটি, অসম: অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (Badruddin)-এর প্রধান ও সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক বক্তব্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস কার্যত বিজেপিকে “১০০ শতাংশ ওয়াকওভার” দিয়েছে এবং এর পেছনে দুই দলের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়া রয়েছে। গুয়াহাটিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বদরুদ্দিন আজমল এই মন্তব্য করেন, যা অসম ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Advertisements

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে AIUDF প্রধান বলেন, “কংগ্রেস বিজেপিকে ১০০ শতাংশ ওয়াকওভার দিচ্ছে। তাদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া আছে, আর আমি এটা খোলাখুলিই বলছি। তারা বিজেপিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাইছে।” তাঁর এই বক্তব্যে বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

   

নির্বাচন কমিশনকে “His Master’s Voice” বলে বিতর্কিত মমতা

একইসঙ্গে বদরুদ্দিন আজমল দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের মুসলিমরা আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর কথায়, “সারা ভারত জুড়ে মুসলিমরা আগের থেকে অনেক ভালো আছে।

মুসলিমদের ভয়ের কিছু নেই। এই দেশের আমাদের সব হিন্দু ভাই মুসলিমদের পাশে আছেন।” আজমলের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নানা মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে কিছু বিভাজনমূলক বক্তব্য বা রাজনৈতিক স্লোগান বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘মিয়াঁ মিয়াঁ’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বদরুদ্দিন আজমল বলেন, “ওনাকে ‘মিয়াঁ মিয়াঁ’ বলতে দিন। এতে বাস্তবতা বদলে যায় না। সাধারণ মানুষ জানে কে কার পাশে আছে।” তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়।

AIUDF প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের সামাজিক কাঠামোতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির একটি দীর্ঘ ও শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য বা নির্বাচনী প্রচারে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই জীবনযাপন করছে। তাঁর দাবি, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

তবে রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে বদরুদ্দিন আজমল ছিলেন যথেষ্ট কঠোর। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মুসলিম ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দেওয়া উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, “আমাদের মতে, একজন মুসলিমেরও বিজেপিকে একটি ভোট দেওয়া উচিত নয়।

যদি কেউ তা করে, তাহলে সেটা আমাদের সম্প্রদায়, আমাদের জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও ঐক্যের উপর জোর দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বদরুদ্দিন আজমলের এই বক্তব্য অসমের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অসম এমন একটি রাজ্য, যেখানে জাতিগত, ভাষাগত ও ধর্মীয় রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক বহু আসনে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলে। সেই প্রেক্ষাপটে আজমলের বক্তব্য মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, একদিকে মুসলিমদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি সামাজিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে নিজের দলের ভোটব্যাঙ্ক সংহত করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সব মিলিয়ে, বদরুদ্দিন আজমলের এই মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু রাজনীতি, বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক উসকে দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর বক্তব্যে একদিকে আশ্বাসের সুর, অন্যদিকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ এই দুইয়ের মিশ্রণই বর্তমান ভারতের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

Advertisements