অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (Badruddin)-এর প্রধান মৌলানা বদরুদ্দিন আজমলের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য অসমের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “ভারতজুড়ে মুসলিমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। মুসলিমদের কিছু ভয়ের নেই।
এই দেশের আমাদের সব হিন্দু ভাইয়েরা মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি (মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা) ‘মিয়াঁ মিয়াঁ’ বলে যান। আমাদের মতে, একজন মুসলিমও বিজেপিকে একটা ভোটও দেবেন না। যদি কেউ দেয়, তাহলে আমাদের সম্প্রদায়, আমাদের জাতির জন্য সেটা দুর্ভাগ্য। কংগ্রেস বিজেপিকে ১০০% ওয়াকওভার দিচ্ছে। এদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া আছে, আমি এটা খোলাখুলি বলছি।
তারা বিজেপিকে ফিরিয়ে আনতে চায়।”এই বক্তব্য অসমের আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বদরুদ্দিন আজমল দীর্ঘদিন ধরে অসমের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তার দল এআইইউডিএফ মূলত মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় শক্তিশালী। কিন্তু এবার তিনি মুসলিমদের নিরাপত্তার কথা বলে একটা ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছেন, যা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত।
একই সঙ্গে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে মুসলিম ভোটারদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘মিয়াঁ’ শব্দ ব্যবহারকে তিনি উসকানিমূলক বলে চিহ্নিত করেছেন, যা অসমে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়।
আজমলের এই মন্তব্যে কংগ্রেসের ওপরও তীব্র আক্রমণ রয়েছে। তিনি বলেছেন, কংগ্রেস বিজেপিকে সরাসরি সাহায্য করছে। অসমে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এআইইউডিএফ আগে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। আজমলের দাবি, কংগ্রেস মুসলিমদের ভোট নিয়েছে কিন্তু কোনো কাজ করেনি। তাই ২০২৬-এ তার দল একা লড়বে এবং কংগ্রেসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে। এই বক্তব্য অসমের বিরোধী শিবিরে নতুন করে বিভাজন তৈরি করতে পারে।বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয়ই আজমলের এই কথাকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, আজমলের এই কথা মুসলিমদের বিভাজনের চেষ্টা। অন্যদিকে কংগ্রেস বলছে, আজমল বিজেপির হাত শক্ত করছেন। অসমের রাজনীতিতে মুসলিম ভোট একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। দরং, বরপেটা, নগাঁওয়ের মতো এলাকায় মুসলিম ভোটাররা প্রভাবশালী। আজমলের এই বক্তব্য তাদের একত্রিত করার চেষ্টা, কিন্তু একই সঙ্গে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির কথা বলে একটা ভারসাম্য রাখার চেষ্টাও করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আজমলের এই অবস্থান তার দলের ভোট ব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করার কৌশল। তিনি মুসলিমদের ভয় দূর করে বলছেন যে দেশে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে আছে, কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এতে বিজেপির ‘মিয়াঁ’ ন্যারেটিভকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানো তার দলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ অসমে বিরোধী ভোট বিভাজিত হলে বিজেপির লাভ হয়।
