‘প্রোটেকশন না থাকলেও লড়াই চলবে’, বললেন মুরুগান

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে এসআইআর-এর শুনানি চলাকালীন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। সোমবার সকালে ঘটে যাওয়া এই…

Supreme Court Silent on SIR Case Petition, Application Rejected

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে এসআইআর-এর শুনানি চলাকালীন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। সোমবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisements

সূত্রের খবর, সোমবার সকালে মগরাহাটের একটি স্কুলে চলছিল SIR সংক্রান্ত শুনানি। সেই শুনানির নথিপত্র খতিয়ে দেখতে এবং গোটা প্রক্রিয়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ওই স্কুলের হিয়ারিং সেন্টারে পৌঁছেছিলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান। তাঁর সঙ্গে মাইক্রো অবজারভারদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। ভোটার তালিকা সংশোধন, অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয় এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি—এই সব নিয়েই বিস্তারিত কথা বলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আচমকাই শতাধিক মানুষ স্কুল চত্বরে এসে জড়ো হন। শুরু হয় বিক্ষোভ। সেই উত্তেজনার মধ্যেই বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং গাড়ির দরজা খুলে চালককে টেনে বার করার চেষ্টা করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, শুরুতেই পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা থাকলে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হত না। ঘটনার পর মুখ খুলেছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট আকারে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেবেন। তাঁর কথায়, “কমিশন আমাকে একটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে। আমি কাজ করতে এসেছি। কারও চাপে কাজ থামাব না। কাজ করেই ছাড়ব।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, হামলার অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে অনড়। তিনি আরও জানান, সরকারি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের পর্যবেক্ষকরা মাঠে নেমে কাজ করেন। সেখানে যদি তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে, তা হলে গোটা ব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

   

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরের তরফে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষককে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় ঘটনা এড়িয়েছে।

 

 

Advertisements