গুয়াহাটি: অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে (Orunodoi scheme)রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার জন্য বড় স্বস্তির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অরুণোদয়’-এর আওতায় এবার অগ্রিম আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই ঘোষণায় উপকৃত হবেন ৩৮ লক্ষেরও বেশি মহিলা, যাঁরা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে অরুণোদয় প্রকল্পের অধীনে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ১,২৫০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) পাচ্ছেন। এবার ফেব্রুয়ারি মাসে একসঙ্গে চার মাসের কিস্তি ছাড়াও অতিরিক্ত বোনাস দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে প্রত্যেক উপভোক্তা মহিলা পাবেন ৫,০০০ টাকারও বেশি।
এখনই সতর্ক হন! ২ মিনিটে মোবাইলে চেক করুন PAN Active না Inactive
২০২০ সালে শুরু হওয়া অরুণোদয় প্রকল্প মূলত রাজ্যের দরিদ্র ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির মহিলাদের জন্য তৈরি। পরিবারের মহিলা সদস্যের নামেই এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ বা সন্তানের পড়াশোনার মতো প্রয়োজনে সরাসরি উপকার পান তাঁরা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ৩৮ লক্ষের বেশি মহিলা অরুণোদয় প্রকল্পের সুবিধাভোগী। প্রতি মাসে নিয়মিত DBT-এর মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাওয়ায় প্রকল্পটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, “এপ্রিল মাসে নির্বাচন। তার আগেই আমরা চাই, পরিবারের মহিলারা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পান।” সেই লক্ষ্যেই ফেব্রুয়ারিতে একসঙ্গে চার মাসের টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ হিসাবে ১,২৫০ টাকা × ৪ মাস = ৫,০০০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে অতিরিক্ত বোনাস, ফলে মোট অঙ্ক আরও কিছুটা বাড়বে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই অর্থ সরাসরি মহিলাদের হাতে পৌঁছলে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে। বাজারে খরচ বাড়বে, ছোট ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতি উপকৃত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা শুধু সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। অসমে মহিলা ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অরুণোদয় প্রকল্পের মাধ্যমে বিজেপি সরকার যে মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করতে চাইছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
বিরোধীরা যদিও একে “নির্বাচনী উপহার” বলে কটাক্ষ করছে। তবে সরকারের পাল্টা যুক্তি, অরুণোদয় কোনও নতুন প্রকল্প নয় এটি দীর্ঘদিনের চলমান প্রকল্প, কেবলমাত্র কিস্তি অগ্রিম দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম ও শহরের বহু মহিলা এই ঘোষণায় খুশি। একজন উপভোক্তা বলেন, “একসঙ্গে এত টাকা পেলে সংসারের অনেক বকেয়া মেটানো যাবে। বাচ্চার স্কুল ফি, বাজার সব কাজে সুবিধা হবে।” অনেকেই জানিয়েছেন, DBT-এর মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাওয়ায় কোনও দালাল বা হয়রানির ঝামেলা নেই।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। উপভোক্তাদের আলাদা করে আবেদন করার দরকার নেই। যাঁরা ইতিমধ্যেই অরুণোদয় প্রকল্পে নথিভুক্ত, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন-পূর্ব অসমে অরুণোদয় প্রকল্প ঘিরে অর্থনৈতিক স্বস্তি ও রাজনৈতিক উত্তাপ দু’টিই একসঙ্গে বাড়ছে। এখন দেখার, এই পদক্ষেপ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।
