মিয়া মুসলিম উচ্ছেদের জমিতে ভবিষ্যতের ফসল বুনলেন মামা

অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি একটি স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন (Assam) উচ্ছেদ অভিযান কোনো রাজনৈতিক নাটক বা চোখ ধাঁধানোর খেলা নয়, এটা…

assam-eviction-drive-himanta-biswa-sarma

অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি একটি স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন (Assam) উচ্ছেদ অভিযান কোনো রাজনৈতিক নাটক বা চোখ ধাঁধানোর খেলা নয়, এটা সম্পূর্ণরূপে ফলাফলমুখী। যে সরকারি জমি একসময় অবৈধ দখলে ছিল, তা আজ পুনরুদ্ধার করে শিল্প-কারখানা, উৎপাদন এবং হাজারো মানুষের জীবিকার পথ তৈরি করা হচ্ছে।

Advertisements

এই নীতির সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও উজ্জ্বল উদাহরণ হল ধুবড়ি জেলার বিলাসিপাড়া এলাকায় খুদিগাঁওয়ে নবনির্মিত ৭০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন।১৫ জানুয়ারি, ২০২৬-এ মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এই সৌর পার্কটি ১০০০ বিঘা জমির উপর নির্মিত হয়েছে, যেখানে আগে অবৈধ বসতি ছিল। সরকারের জোরালো উচ্ছেদ অভিযানের পর এই জমি খালি করে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

   

Bangladesh: পেট্রোলের দাম নিয়ে বচসা, ল্যান্ড ক্রুজারে পিষে মারা হল হিন্দু যুবককে!

প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বছরে ১৪১ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং প্রায় ১.১৫ লক্ষ টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে। এটি অসমের মোট সৌর বিদ্যুৎ ক্ষমতাকে ৬৮০ মেগাওয়াটে নিয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসের মধ্যে আরও ৫০ মেগাওয়াট যোগ হয়ে এই সংখ্যা ৭৩০ মেগাওয়াটে পৌঁছবে।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন।হিমন্ত দা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যে জমি উচ্ছেদ করছি, তা খালি ফেলে রাখলে আবার দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রকল্প যখনই আসে, তখনই জমি পরিষ্কার করে উন্নয়ন শুরু করা হয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিলাসিপাড়ায় একই এলাকায় আরও একটি বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা চলছে – ৩২০০ মেগাওয়াটের আলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প।

আদানি পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এই মেগা প্রকল্পের জন্য। এটি চারটি ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নিয়ে গড়ে উঠবে এবং ২০৩০-৩২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। এই প্রকল্পের জন্যও বিলাসিপাড়া সহ ধুবড়ি এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে – হাজার হাজার বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।এই দুটি প্রকল্পই অসমের শক্তি ক্ষেত্রে বিপ্লব আনবে।

সৌর প্রকল্প পরিবেশবান্ধব ও স্থায়ী শক্তির পথ দেখাচ্ছে, অন্যদিকে তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প রাজ্যের শিল্পায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করবে। দুটোতেই হাজার হাজার স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে – নির্মাণকালে লক্ষাধিক, পরিচালনাকালে হাজারখানেক স্থায়ী চাকরি। স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, যুবসমাজের হাতে দক্ষতা ও রোজগার আসবে।

Advertisements