আজ সকাল থেকেই ফের বঙাইগাঁও জেলার চাপাগুড়ি এলাকায় বুলডোজারের গর্জন আর ধুলোর ঝড় (Assam illegal encroachment)। অসম সরকারের ‘অনুপ্রবেশকারীমুক্ত অসম’ অভিযানের অঙ্গ হিসেবে প্রায় ১৫ একর সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলো। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এই জমির বেশিরভাগ দখল করেছিলেন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী পরিবারগুলো, যারা বছরের পর বছর ধরে সেখানে বাড়ি-ঘর, দোকান, মসজিদ, মাদ্রাসা গড়ে তুলেছিলেন।
সকাল সাতটা নাগাদ চারদিক থেকে পুলিশ আর ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে প্রশাসন হাজির। মাইকে ঘোষণা করা হল—‘যাঁদের কাছে বৈধ কাগজ নেই, তাঁরা নিজেরাই জিনিসপত্র সরিয়ে নিন।’ কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই হাতে কোনো কাগজ দেখাতে পারলেন না। তারপর শুরু হলো বুলডোজারের নির্মম নৃত্য। টিনের চাল উড়ে গেল, বাঁশের দেওয়াল ধসে পড়ল, মানুষের চিৎকার আর শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠল বাতাস।
মিনিট পঞ্চাশেকের মধ্যে যে বসতিটা দশ-বারো বছর ধরে গড়ে উঠেছিল, তা সমান হয়ে গেল মাটির সঙ্গে।এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙাইগাঁওয়ের জেলাশাসক নবনীত মহন্ত এবং এসপি মৃণাল দত্ত। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চার কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী। প্রশাসনের হিসেবে, মোট ১৪.৭ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রেলের জমিও রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৮০-র কাছাকাছি।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিকেলে গুয়াহাটি থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “অসম কারও বাপের সম্পত্তি নয়। সরকারি জমি দখল করে বসে থাকলে আর ছাড় নেই। যেই হোন, যে ধর্মেরই হোন অবৈধ দখলদারকে ছাড়া হবে না। আজ বঙাইগাঁও থেকে ১৫ একর জমি ফিরিয়ে আনলাম। এটা শুধু শুরু।”তিনি আরও লেখেন, “যাঁরা ভাবছেন ভোটব্যাঙ্কের ভয়ে আমরা পিছু হটব, তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি অসমের মাটি, অসমের আইন, অসমের সরকার।
এখানে জঙ্গলরাজ চলবে না।”উচ্ছেদের পর পরই সেই জমিতে বসানো হলো সাইনবোর্ড এই জমি অসম সরকারের সম্পত্তি। অবৈধ দখল করা আইনত দণ্ডনীয়।’ স্থানীয় সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে আরও দুটি এলাকায় একই ধরনের অভিযান হবে।উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের মধ্যে অনেকেই বলছেন, তাঁরা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন, ভোটার কার্ড-আধার কার্ড আছে, কিন্তু পাট্টার নেই। এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমরা কোথায় যাব? ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়, এখন সব শেষ।” আরেকজন বৃদ্ধ বললেন, “আমরা তো ১৯৯১-এর আগে এসেছি, তাহলে অনুপ্রবেশকারী কেন?”
কিন্তু প্রশাসনের জবাব একটাই কাগজ দেখান। কাগজ না থাকলে জমি সরকারের। জেলাশাসক বলেছেন, “যাঁদের সত্যিই বৈধ দাবি আছে, তাঁরা আদালতে যেতে পারেন। কিন্তু সরকারি জমি আর দখল করে রাখা যাবে না।”এই উচ্ছেদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা অসমের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, এটা নির্বিচারে একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ বলেছেন, “মানবিক দিকটা দেখতে হবে। শীতের মধ্যে মানুষকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া কি কি মানবতা?”
