
আসানসোলের বরাকর এলাকায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে (Asansol)ভয়াবহ উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় দুই পাড়ার যুবকদের মধ্যে খেলা নিয়ে বিতর্ক থেকে শুরু হয়ে পরিস্থিতি একেবারে রণক্ষেত্রের আকার নেয়। ইট-পাটকেল ছোড়া, মারধর এবং গুলি চলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কুলটি থানার অধীনে বরাকর পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন একটি মাঠে দুই দলের যুবকরা ক্রিকেট খেলছিল। খেলার মাঝে একটি ছোট্ট বিষয় নিয়ে তর্ক বেধে যায় কেউ বলছে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ, কেউ আবার দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে।
পাকিস্তানের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম ইজরায়েল থেকে ১,০০০ স্পাইস ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে ভারত
এই তর্ক ক্রমশ বড় হয়ে দুই পাড়ার যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষে পরিণত হয়। প্রথমে হাতাহাতি, তারপর ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় যখন কেউ কেউ অভিযোগ করে যে, সংঘর্ষের মাঝে গুলি চালানো হয়েছে। বরাকর পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই এই গুলির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
কুলটির বিজেপি বিধায়ক ড. অজয় পোদ্দার সংবাদ মাধমের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনা সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানেনা না। তবে তিনি বলেছেন কোনো এক পক্ষ প্ররোচনা দেওয়াতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কুলটি ব্লক যুব সভাপতি অমিত যাদব জানিয়েছেন এই ঘটনাটা সম্পূর্ণ ভাবে ধর্মের প্ররোচনাতে হয়েছে।
তিনি বলেন ছোট বাচ্চারা ক্রিকেট খেলছিল তাই নিয়েই ঝামেলা গতকাল এই ঝামেলা মিতে যাওয়ার পর কোনো এক পক্ষ ফের অশান্তির প্ররোচনা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন বাংলার মাটি অত্যন্ত পবিত্র সেখানে দাঁড়িয়ে কোনো পক্ষ যদি মেরুকরণের রাজনীতি করে তবে তা মানা হবে না।
এই খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ব্যাপক সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়, যাতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক না হয়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইট-পাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয় এবং লাঠিচার্জ চালাতে বাধ্য হয়। এতে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কয়েকজনকে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা গুলি চালানোর অভিযোগে জড়িত, তাদের খোঁজে অভিযান চলছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য স্থানীয় নেতা ও যুবকদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।










