দিল্লি থেকে ইশারা পেয়ে কি সবকিছু হচ্ছে? আয়োজকদের ঘিরে প্রশ্ন কুণালের

Are Organizers Acting on Delhi’s Instructions? Kunal Ghosh Asks
Are Organizers Acting on Delhi’s Instructions? Kunal Ghosh Asks

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। এই ঘটনায় বিজেপির দিকে চক্রান্তের ইঙ্গিত দিলেন কুণাল ঘোষ (kunal Ghosh)। তাঁর দাবি, কলকাতার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যে দিল্লির কিছু চক্রান্তকারীর সঙ্গে বেসরকারি আয়োজকদের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—তা তদন্ত ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।

শনিবার যুবভারতী কাণ্ডের পরই কুণাল ঘোষ স্টেডিয়ামের ভিতরে গেরুয়া পতাকার উপস্থিতি নিয়ে সরব হন। তিনি অভিযোগ তোলেন, একটি আন্তর্জাতিক বা বড় মাপের অনুষ্ঠানে কীভাবে রাজনৈতিক প্রতীকের প্রবেশ ঘটল, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। তাঁর বক্তব্য, “খেলার মাঠ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। সেখানে যদি পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক পতাকা ঢুকে পড়ে, তা হলে তার নেপথ্যে কারা আছে, সেটা জানা দরকার।”

   

কুণাল ঘোষের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। কখনও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে, কখনও সাংস্কৃতিক বা সামাজিক ইস্যুকে রাজনৈতিক রং দিয়ে রাজ্যকে অশান্ত দেখানোর চেষ্টা চলছে। যুবভারতী কাণ্ডও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, “কলকাতা আন্তর্জাতিক মানের শহর। এখানে বড় বড় অনুষ্ঠান হয়, দেশ-বিদেশের মানুষ আসেন। সেই শহরের সম্মান নষ্ট করার জন্য যদি কোনও চক্রান্ত হয়ে থাকে, তা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।”

তৃণমূলের এই নেতার অভিযোগ, দিল্লি থেকে বসে কিছু শক্তি বাংলার রাজনীতিতে অশান্তি তৈরি করতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বা আয়োজকদের ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে আগাম রায় দিচ্ছি না। কিন্তু প্রশ্ন তোলা আমাদের অধিকার। তদন্ত হলে সব সত্য সামনে আসবে।”

তিনি আরও জানান, যুবভারতীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার হাতে ছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। কীভাবে স্টেডিয়ামের ভিতরে গেরুয়া পতাকা প্রবেশ করল, কার অনুমতিতে তা ওড়ানো হল—এই সব প্রশ্নের উত্তর প্রশাসন ও আয়োজকদের দিতে হবে। কুণালের কথায়, “এটা কোনও ছোট ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে একটা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।” এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, বিজেপি বাংলায় সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে। ধর্ম ও রাজনীতিকে মিশিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরিই তাদের লক্ষ্য। যুবভারতীর ঘটনা সেই চেষ্টারই প্রতিফলন হতে পারে বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, “বাংলা শান্তির রাজ্য। এখানে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না।”

অন্যদিকে, বিজেপি শিবির কুণাল ঘোষের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, তৃণমূল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, যুবভারতী কাণ্ডে কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত নেই এবং তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে।

 

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন