অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যুতে ডবল ইঞ্জিন আক্রমণ কংগ্রেস সাংসদের

গুয়াহাটি: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমার (Angel Chakma)মৃত্যুকে ঘিরে ক্রমশ গভীর হচ্ছে রহস্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি প্রশাসনের ভূমিকা…

angel-chakma-death-dehradun-investigation-gaurav-gogoi

গুয়াহাটি: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমার (Angel Chakma)মৃত্যুকে ঘিরে ক্রমশ গভীর হচ্ছে রহস্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। তাঁর বক্তব্য, অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর তদন্তে শুরু থেকেই গাফিলতি হয়েছে এবং এখন প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Advertisements

গৌরব গগৈ বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। একজন বাবার পক্ষে সন্তানের মৃত্যু যে কত বড় ক্ষত, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তার উপর অ্যাঞ্জেলের বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের পুরো জীবন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় উৎসর্গ করেছেন। এমন পরিবারের সন্তানের সঙ্গে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে তার ন্যায়বিচার পাওয়াটা আরও জরুরি হয়ে ওঠে।”

   

SIR-এ মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার তীব্র সমালোচনা, শহিদ বেদি নির্মাণের ঘোষণা

এই ঘটনার পর দেরাদুনের এসএসপি যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গগৈ। তাঁর দাবি, ওই বিবৃতির ভাষা ও সময় দেখে মনে হচ্ছে, আবারও এই মামলাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ঘটনার পর প্রথমে এফআইআর দায়ের করতেই ১২ দিন সময় লেগেছে। এতদিন পরে যখন তদন্ত শুরু হয়েছে, তখন এসএসপির এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলছে।”

কংগ্রেস সাংসদের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশেই এই মামলাকে ধীরে ধীরে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “এটা শুধু একটা ছাত্রের মৃত্যু নয়, এটা ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। কিন্তু প্রশাসনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, উপর মহলের নির্দেশে বিষয়টি কোথাও চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর দিক থেকেও চাপ থাকতে পারে।”

অ্যাঞ্জেল চাকমা ত্রিপুরার বাসিন্দা ছিলেন এবং পড়াশোনার জন্য দেরাদুনে থাকতেন। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পরিবার এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে এবং শুরু থেকেই পুলিশ সঠিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেনি।

এই ঘটনার জেরে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেরই প্রশ্ন, একজন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় কেন এফআইআর দায়ের করতে এত দেরি হল? কেন তদন্তের প্রথম দিকেই প্রশাসনের তরফে পরিষ্কার কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি? এই প্রশ্নগুলির উত্তর না মেলায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

গৌরব গগৈ আরও বলেন, “যদি সত্যিই প্রশাসনের লুকোনোর কিছু না থাকে, তাহলে তদন্তে দেরি কেন? কেন এই ধরনের বিবৃতি দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে?” তাঁর দাবি, অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়েরই উচিত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা। এই ঘটনার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংসদ এবং জাতীয় স্তরে তোলারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মানবাধিকার সংগঠন এবং ছাত্র সংগঠনগুলিও কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি তুলতে শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে, অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যু এখন আর শুধুমাত্র একটি পারিবারিক শোকের ঘটনা নয়, বরং তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, বিচারব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনের তরফে যদি দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হয়, তাহলে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিতে পারে।

Advertisements