
নয়াদিল্লি: লোকসভায় নির্বাচন সংস্কার নিয়ে crucial আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah on SIR in Lok Sabha)অমিত শাহের বক্তব্য আবারও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে শাহ স্পষ্টভাবে জানান, বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণেই অধিবেশনের প্রথম দুই দিন কার্যত অচল ছিল। অথচ বিজেপি-এনডিএ কখনওই আলোচনার বাইরে পালানোর পক্ষপাতী নয় এই বার্তাই তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
শাহ বলেন, “পার্লামেন্ট দেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক পঞ্চায়েত। এখানে আলোচনা ঠেকানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমরা সবসময় নিয়ম মেনে যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রথম দুই দিন বিরোধীরা অনড় ছিলেন।” তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, সরকার আলোচনায় আপত্তি করেনি আপত্তি ছিল আলোচনার ধরণ ও বিষয়বস্তু নিয়ে।
চিন, রাশিয়া বা আমেরিকা নয়, এই দেশের সীমান্ত সবচেয়ে নিরাপদ, এমনকি ট্রাম্পও তার ভক্ত
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল SIR অর্থাৎ State of the Electoral Roll বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মূল্যায়ন নির্দেশিকা। বিরোধীরা এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা দাবি করলেও অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানান, SIR নিয়ে সংসদে কোনও আলোচনার সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন বিষয়, যা নিয়ে সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।
অমিত শাহ বলেন, “SIR পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। ভারতের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোনওভাবেই সরকারের অধীন নন। যদি আমরা এখানে SIR নিয়ে আলোচনা করি এবং প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তার উত্তর দেবে কে? সরকার নয়। তাই এই বিষয়টি সংসদের আলোচনার বাইরে।” তাঁর মতে, সংসদে এমন কোনও বিতর্ক হওয়া উচিত নয় যা সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনসম্পন্ন সংস্থার উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে বিরোধীরা যখন জানায় যে তারা আলোচনাকে সীমাবদ্ধ করে শুধুমাত্র নির্বাচনী সংস্কার প্রসঙ্গে কথা বলতে চায়, তখনই সরকার আলোচনার পথ খুলে দেয়। শাহ বলেন, “ওরা যখন বলল তারা শুধুমাত্র নির্বাচন সংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে চায়, আমরা সঙ্গে সঙ্গেই সম্মতি জানাই। কারণ এই বিষয়ে আমরা সবসময়ই প্রস্তুত।” শাহ বলেন, প্রথম দুই দিনের অচলাবস্থা দেশের কাছে ভুল বার্তা পাঠিয়েছে যেন সরকার আলোচনা এড়াতে চাইছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বিরোধীদের তরফ থেকে SIR-কে আলোচনার কেন্দ্রে আনার চেষ্টা নিয়েই মূল জট তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “দুই দিন ধরে আমরা বিরোধীদের বোঝাতে চাইছিলাম এটা ভবিষ্যতের কোনো সেশনেও আলোচনা করা যাবে না। কারণ এটি সংসদের বিষয়বস্তু নয়। তবুও তারা অনড় ছিলেন। পরে যখন তারা নির্বাচন সংস্কার নিয়ে কথা বলেন, আমরা ওই মুহূর্তেই সম্মত হই।”
এই ঘটনায় সংসদে আবারও সেই চিরাচরিত প্রশ্ন উঠে এসেছে বিরোধী-সরকার সংঘাতের কারণে কতটা ব্যাহত হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া? বিরোধীরা সরকারকে দায়ী করলেও বিজেপির দাবি, বিরোধীরা সংসদকে ইচ্ছাকৃতভাবে অচল করে রাজনৈতিক লাভ তুলতে চায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। যেকোনো রাজনৈতিক চাপ বা সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে তাদের কাজের স্বাধীনতায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে সেটা গণতন্ত্রের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র আগ্রহী। তবে SIR-কে সংসদীয় আলোচনার বাইরে রাখাই হবে সাংবিধানিকভাবে সঠিক পদক্ষেপ—এই বার্তাই উঠে এসেছে অমিত শাহের বক্তব্যে।
শেষ পর্যন্ত, অচলাবস্থা কাটিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হলেও রাজনৈতিক তাপমাত্রা এখনও উঁচু। বিরোধীরা সরকারকে দায়ী করছে, আর সরকার বলছে—বিরোধীরা ইস্যুকে ভুল পথে নিতে চাইছিল। তবে একটি ব্যাপার স্পষ্ট: নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা ও নির্বাচন সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও তীব্র রাজনৈতিক লড়াই দেখা যেতে চলেছে।









