২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, (AIMIM West Bengal Assembly Election)ততই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সেই সমীকরণে এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে তৎপর হয়ে উঠেছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন সর্ব ভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)। বিশেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাকে ঘিরে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা জেলা রাজনীতিতে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হায়দরাবাদভিত্তিক এই দলটি ইতিমধ্যেই দেশের একাধিক রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করে নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ছ’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, এবার AIMIM এর লক্ষ্য অনেক বড়। দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার শতাধিক আসনে নজর রয়েছে AIMIM এর । আর সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মাঠে নেমেছে ওয়াইসির দল।
‘আইন শৃঙ্খলার চরম উপহাস!’ মেসি কাণ্ডে বিস্ফোরক শুভঙ্কর
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ধারাবাহিক সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করছে AIMIM নেতৃত্ব। আগামী দিনে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ‘অধিকার যাত্রা’ শুরু করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই যাত্রার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার ইস্যুকে সামনে আনা হবে।
গত ১১ তারিখ বিকেল প্রায় ৩টে নাগাদ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৪২ নম্বর হরিরামপুর বিধানসভার অন্তর্গত সৈয়দপুর অঞ্চল এলাকায় AIMIM এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি উম্মেদ আলী খান, জেলা সহ-সভাপতি হায়দার আলী, হরিরামপুর ব্লক নেতা মেহেদী হাসান, মাবুদ হাসান-সহ একাধিক জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব।
সভা শেষে প্রায় ৩০ জন তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম ছেড়ে মিমে যোগদান করেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই দলবদলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
এর আগেও, গত ৮ তারিখ সন্ধ্যা ৫টা নাগাদ জেলার ৩৮ নম্বর কুমারগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত ১ নম্বর সাফানগর অঞ্চল কার্যালয়ের সামনে আরও একটি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সভাপতি মোঃ জালাল সরকার, কুমারগঞ্জ ব্লক সভাপতি মাহাবুর মিয়া-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। ওই সভা থেকে কুমারগঞ্জ বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরা হয় এবং খুব শীঘ্রই ‘অধিকার যাত্রা’ শুরু করার কথা ঘোষণা করা হয়।
AIMIM নেতৃত্বের বক্তব্য, তারা কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বহু অঞ্চলে সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলি সেই সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই মিম বাংলার রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ দিনাজপুরে মিমের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং শাসক ও বিরোধী দল থেকে কর্মীদের যোগদান আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এখনও অনেক পথ বাকি, তবে AIMIM এর এই সক্রিয়তা যে বাংলার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ দিনাজপুরে মিমের এই বাড়তি তৎপরতা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
