HomeBharatPoliticsনন্দীগ্রামে অভিষেকের লড়াই? সুকান্তের মন্তব্যে চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ

নন্দীগ্রামে অভিষেকের লড়াই? সুকান্তের মন্তব্যে চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ

- Advertisement -

বিধানসভা নির্বাচনের আর খুব বেশি দেরি নেই। রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। দল থেকে দলান্তর, প্রার্থী বাছাই, সংগঠন শক্তিশালী করা—সবই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীত্ব নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।

বিতর্কের সূত্রপাত কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের এক দাবিকে কেন্দ্র করে। সুকান্তবাবুর অভিযোগ, নন্দীগ্রাম থেকেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও দাবি করেন, এই সম্ভাব্য প্রার্থীত্বকে মাথায় রেখেই নন্দীগ্রামে সম্প্রতি একাধিক পুলিশ অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে, এবং সেই কারণেই নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে হঠাৎ এত নড়াচড়া। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ানোর বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, কিন্তু দলীয় শিবিরের একাংশের দাবি—বিজেপি অকারণেই বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত আলোচনা করছে। তাঁদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সর্বভারতীয় পর্যায়ের নেতা কোথা থেকে ভোটে দাঁড়াবেন, তা দল ঠিক করবে সঠিক সময়েই। সে সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জল্পনা কল্পনার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

   

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের বর্তমান বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টিকে হালকাভাবে নেননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ালে তাঁকে কেউ ভোট দেবে না।” শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামের মানুষ তৃণমূলের রাজনীতির উদ্দেশ্য বুঝে ফেলেছেন এবং এখানে বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা অটুট। সেই কারণে যে-ই তৃণমূল প্রার্থী হোন না কেন, নন্দীগ্রামের ভোটাররা তাঁর প্রতি সমর্থন দেখাবেন না। শুভেন্দুর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুনভাবে জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ছিল রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্রে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এখানে প্রার্থী হলেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন। সেই ঘটনার পর নন্দীগ্রাম একপ্রকার প্রতীকী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে—যেখানে জয়-পরাজয় রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী প্রভাব ফেলে।

এই প্রেক্ষাপটে যদি সত্যিই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হন, তা হলে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেককে সামনে আনা হলে দল যে লড়াইকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, সে বার্তাই ভোটারদের কাছে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারী হলেন দলের অন্যতম মুখ, বিশেষত নন্দীগ্রামে তাঁর প্রভাব সম্বন্ধে দল আত্মবিশ্বাসী। ফলে দু’পক্ষের মধ্যেই তৈরি হবে এক চরম লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে আগে থেকে জল্পনা তৈরি হলেও নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন, মানুষের প্রত্যাশা ও ভোটারদের মনোভাবের উপর। নন্দীগ্রামের ইতিহাসে আন্দোলনের ছাপ গভীর। উন্নয়ন, জমি, কর্মসংস্থান, এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা—এই সবই এখানে ভোটের মূল ইস্যু হতে পারে।

 

 

- Advertisement -
Suparna Parui
Suparna Paruihttps://kolkata24x7.in/author/suparna-parui
হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular