ফের অভিষেককে হুঁশিয়ারি শান্তনুর! কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ছয়লাপ ঠাকুরবাড়ি

abhishek-banerjee-thakurbari-visit-central-forces

কলকাতা: আজ মতুয়া গড়ে ঠাকুরবাড়ি সফরে আসছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই সফর ঘিরেই চড়েছে রাজনৈতিক পারদ। কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ঘিরে ফেলা হয়েছে শান্তনু ঠাকুরের বাড়ি সহ সম্পূর্ণ এলাকা। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু আগেই জানিয়েছিলেন ফোর্স নিয়ে এলে ঠাকুর বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না অভিষেককে। ঠিক সেই কারণেই আজকের এই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন।

শান্তনু আজকেও ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে। তিনি বলেছেন বন্দুক নিয়ে ঠাকুর বাড়িতে ঢোকা বা কুকুর দিয়ে মন্দির শোকানো বরদাস্ত করা হবে না। তাই এই ব্যবস্থা। তবে সূত্রের খবরে জানা যাচ্ছে কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্যই কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন। ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি আজ রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের সফর ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায়।

   

মোদী ফোন না করাতেই বানচাল বাণিজ্য চুক্তি? ট্রাম্পের ‘ইগো’ হার্ট! বিস্ফোরক মার্কিন সচিব

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বাড়ি সহ সমগ্র ঠাকুরবাড়ি এলাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এই মোতায়েনের পিছনে রয়েছে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর উদ্দেশ্য, যদিও শান্তনু ঠাকুরের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি অভিষেকের শক্তি প্রদর্শনের অংশ।আজ দুপুরে তাহেরপুরে জনসভা সেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরনগরে পৌঁছবেন এবং হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দেবেন। এই সফরের ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে।

শান্তনু ঠাকুর আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, পুলিশ ফোর্স নিয়ে এলে অভিষেককে ঠাকুরবাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেছিলেন, “ঠাকুরবাড়ি সবার, কিন্তু শক্তি প্রদর্শন করে এলে পুজো দিতে দেব না।” আজ সকালেও শান্তনু ফের সেই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বন্দুক নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে ঢোকা বা কুকুর দিয়ে মন্দির শোঁকানো বরদাস্ত করা হবে না।” এই মন্তব্যের পরই কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন আরও জোরদার হয়েছে।

সূত্রের খবর, সিআরপিএফের একাধিক কোম্পানি এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও সংঘর্ষ না ঘটে।মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। মতুয়া মহাসংঘ দু’ভাগে বিভক্ত একদিকে শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন অংশ বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে মমতাবালা ঠাকুরের অংশ তৃণমূলের কাছাকাছি। তবে শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীরা দাবি করছেন, এটি তৃণমূলের চাপানউতোরের ফল।এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। মতুয়ারা নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার এবং অন্যান্য দাবি নিয়ে সরব। তৃণমূল চাইছে এই সম্প্রদায়কে কাছে টানতে, যেখানে বিজেপি ইতিমধ্যে শান্তনু ঠাকুরের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছে। অভিষেকের এই সফরকে দেখা হচ্ছে তৃণমূলের পাল্টা কৌশল হিসেবে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক সাধারণ ভক্তের মতোই পুজো দিতে যাবেন, সীমিত নিরাপত্তা নিয়ে। কিন্তু শান্তনু ঠাকুরের হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন